সংবাদ শিরোনামঃ
দালাল বাজার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে কাকে ভোট দিবেন? লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী কাজল খাঁনের গণজোয়ার লক্ষ্মীপুরের উপশহর দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পাঁচজন,কে হবেন চেয়ারম্যান ? বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ওমান সুর শাখার সহ-সাধারন সম্পাদক কামাল হোসেনের ঈদের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক এমপি ও মন্ত্রী হতে নয় বরং মানুষের পাশে দাঁড়াতে আ.লীগ করি, সুজিত রায় নন্দী বাড়ছে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য, নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ চাই বাড়ছে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য, নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ চাই লক্ষ্মীপুরে বিনা তদবিরে পুলিশে চাকরি পেল ৪৪ নারী-পুরুষ দুস্থ মানবতার সেবায় এগিয়ে আসা “সমিতি ওমান ” কর্তৃক চট্টগ্রামে ইফতার সামগ্রী বিতরণ দলিল যার, জমি তার- নিশ্চিতে আইন পাস লক্ষ্মীপুরে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে পবিত্র কুমার  লক্ষ্মীপুর সংরক্ষিত আসনের মহিলা সাংসদ আশ্রাফুন নেসা পারুল রায়পুরে খেজুর রস চুরির প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগ লক্ষ্মীপুরে আলোচিত রীয়া ধর্ষণের বিষয়ে আদালতে মামলা তিনশ’ বছরের ঐতিহাসিক ‘খোয়াসাগর দিঘি’র নাম পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই, জেলা প্রশাসক’
পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার স্বীকারোক্তি দিলেন ইকবাল

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার স্বীকারোক্তি দিলেন ইকবাল

স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার কথা স্বীকার করেছেন ইকবাল হোসেন। গতকাল শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি এ ঘটনা স্বীকার করেন। কুমিল্লা জেলা অতিরিক্ত সহকারী পুলিশ সুপার (ক্রাইম) এম তানভির আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো জানান, কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ে দর্পন সংঘের অস্থায়ী পূজাম-পে পবিত্র কোরআন রাখার পর হনুমানের মূর্তি থেকে গদা সরিয়ে নেয়ার কথাও স্বীকার করেছেন ইকবাল। তবে কার নির্দেশে তিনি এ কাজটি করেছেন, তা এখনো জানাননি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইকবাল হোসেনকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে আটক করে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী সরকারি এসএ কলেজের ছাত্রলীগ মেহেদী হাসান মিশু, সাজ্জাদুর রহমান অনিক ও তার বন্ধু সাইফুল ইসলাম সাইফ। তারা কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিলেন। কিভাবে আলোচিত সেই ইকবালকে তারা আটক করেছেন তার বর্ণনা দিয়েছেন। ইকবালের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য তারা সমুদ্র সৈকতে ১০ ঘণ্টা আড্ডা দেন।

গতকাল শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান মিশু বলেন, প্রথমে ইকবালকে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। তারপর তার সাথে সখ্যতা তৈরি করেন। এক পর্যায়ে ইকবাল স্বীকার করেন তিনিই পূজাম-পে কোরআন রাখা সেই ইকবাল। তারপর বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে বিষয়টি কক্সবাজার পুলিশকে জানান তারা। এরপর পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাতেই কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকারের নেতৃত্বে কুমিল্লা থেকে রওনা দেয় পুলিশের একটি টিম। এদিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর কক্সবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে গতকাল শুক্রবার সকালে কড়া নিরাপত্তায় তাকে নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল। পরে ১২ টার দিকে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে পৌঁছে ইকবালকে নিয়ে যাওয়া বহরটি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে তাকে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে এনে প্রাথমিকভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এদিকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ইকবাল কোন জায়গা থেকে পবিত্র কোরআন নিয়ে কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন এবং কিভাবে তিনি মন্দিরে প্রবেশ করেছিলেন এসব চিত্র।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার দিন রাতে কয়েক দফায় ইকবাল হোসেন মাজার সংলগ্ন মসজিদে প্রবেশ করেন। রাত ১০টা ৫৮ মিনিটে তিনি মসজিদে যান। পরে বের হয়ে আসেন। এ সময় মসজিদে দুইজন মুসলি্ল ছিলেন। পরে আবার রাত ২টা ১২ মিনিটে মসজিদের একটি বক্স থেকে কোরআন নামিয়ে ফ্লোরে রেখে বের হয়ে যান তিনি। সর্বশেষ রাত ২টা ১৭ মিনিটে আবারো মসজিদে গিয়ে কোরআন হাতে বের হয়ে যান তিনি।

মাজার থেকে বের হয়ে পবিত্র কোরআন শরীফ হাতে নিয়ে পূজা মন্ডপের কানেক্টিং রোডের দিকে প্রস্থান করেন চিহ্নিত ব্যক্তি। এরপর জগন্নাথ মন্দির রোড থেকে স্ট্যান্ডার্স ব্যাংকের চকবাজার শাখার দিকে অগ্রসর হন তিনি। পরে স্ট্যান্ডার্স ব্যাংকের চকবাজার শাখা থেকে পূবালী ব্যাংক রোডের পাশের গলিতে প্রবেশ করেন। পরে পূবালী ব্যাংক রোডের পাশের গলিতে অবস্থান করেন এবং সেখানকার নৈশপ্রহরীদের সাথে কথা বলেন। চকবাজার পূবালী ব্যাংক মোড়ের পাশের গলি থেকে এসআইবিএল ব্যাংকের দিকে প্রস্থান করেন তিনি।

এসআইবিএল ব্যাংক চকবাজার শাখা থেকে স্ট্যান্ডার্স ব্যাংকের দিকে অগ্রসর হন। স্ট্যান্ডার্স ব্যাংক চকবাজার শাখা থেকে পুনরায় জগন্নাথ মন্দিরের রোডের দিকে অগ্রসর তিনি। এরপর জগন্নাথ মন্দির থেকে পূজাম-পের দিকে ধাবমান হন চিহ্নিত সেই ব্যক্তি।

ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, মাজারের মসজিদ থেকে নেয়া পবিত্র কোরআন শরীফ চিহ্নিত সেই ব্যক্তির হাতে রয়েছে। উপরন্তু ম-পের হনুমান মূর্তির গদা কাঁধে নিয়ে মাজারের কানেক্টিং রোডের দিকে প্রস্থান করেন তিনি।

সিসিটিভি ফুটেজে চিহ্নিত ব্যক্তির প্রস্থানের সমসাময়িক সময়ে ৯৯৯ এ ফোন প্রদানকারী একরামের উপস্থিতি দেখা যায়। আবার তিনি দারোগাবাড়ি মাজার মসজিদে প্রবেশ করেন। যে কোরআন হাতে তিনি সব জায়গা ঘুরেছেন পুনরায় মসজিদে প্রবেশের সময় সেই কোরআন এবং গদা তার হাতে দেখা যাচ্ছে না। পরে ১৩ অক্টোবর উত্তেজিত জনতার মাঝে উস্কানিমূলক কথা বলতে দেখা যায় ইকবালকে। এরপর পূজাম-পে কোরআন রাখা নিয়ে মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কুমিল্লার বিভিন্ন থানায় ৯টি মামলায় ৭৯১ জনকে আসামি করা হয়। এরমধ্যে কোতোয়ালি মডেল থানায় পাঁচটি, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় দুটি এবং দাউদকান্দি ও দেবীদ্বার থানায় একটি করে মামলা হয়েছে। ৯১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলায় ৭০০ অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪৪ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ম-পের আশপাশসহ নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ইকবালকে শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কুমিল্লা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, কুমিল্লার ঘটনায় জড়িত সন্দেহ কক্সবাজারে আটক ব্যক্তিই সিসিটিভি ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়া ইকবাল। আটক ব্যক্তিই কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজাম-পে পবিত্র কোরআন শরিফ রেখেছেন। তাকেই সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত করা হয়েছে। আটক ইকবাল কুমিল্লা নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ড সুজানগর এলাকার মাছ বিক্রেতা নূর আলমের ছেলে।

(সংগৃহীত দৈনিক জনতা-২৩ অক্টোবর ২০২১)