সংবাদ শিরোনামঃ
দালাল বাজার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে কাকে ভোট দিবেন? লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী কাজল খাঁনের গণজোয়ার লক্ষ্মীপুরের উপশহর দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পাঁচজন,কে হবেন চেয়ারম্যান ? বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ওমান সুর শাখার সহ-সাধারন সম্পাদক কামাল হোসেনের ঈদের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক এমপি ও মন্ত্রী হতে নয় বরং মানুষের পাশে দাঁড়াতে আ.লীগ করি, সুজিত রায় নন্দী বাড়ছে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য, নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ চাই বাড়ছে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য, নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ চাই লক্ষ্মীপুরে বিনা তদবিরে পুলিশে চাকরি পেল ৪৪ নারী-পুরুষ দুস্থ মানবতার সেবায় এগিয়ে আসা “সমিতি ওমান ” কর্তৃক চট্টগ্রামে ইফতার সামগ্রী বিতরণ দলিল যার, জমি তার- নিশ্চিতে আইন পাস লক্ষ্মীপুরে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে পবিত্র কুমার  লক্ষ্মীপুর সংরক্ষিত আসনের মহিলা সাংসদ আশ্রাফুন নেসা পারুল রায়পুরে খেজুর রস চুরির প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগ লক্ষ্মীপুরে আলোচিত রীয়া ধর্ষণের বিষয়ে আদালতে মামলা তিনশ’ বছরের ঐতিহাসিক ‘খোয়াসাগর দিঘি’র নাম পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই, জেলা প্রশাসক’
পরীমণি-পিয়াসার মায়াজাল অনৈতিক কর্মে জড়িত ২১ প্রভাবশালীর নাম পেয়েছে সিআইডি

পরীমণি-পিয়াসার মায়াজাল অনৈতিক কর্মে জড়িত ২১ প্রভাবশালীর নাম পেয়েছে সিআইডি

বিশেষ প্রতিনিধি ভিবি নিউজ:

ভুঁইফোড় হিসেবে গজিয়ে ওঠা আওয়ামী চাকরি লীগের হেলেনা জাহাঙ্গীর থেকে গল্পের শুরু। এরপর এলো কথিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মৌ। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ নয়, একেবারে অ্যানাকোন্ডা বেরিয়ে এলো। একের পর এক প্রকাশিত খবরে দেশবাসী চমকে উঠেছে। এও কি সম্ভব? এসব যেন বাস্তবে নয়, রুপালি পর্দাতেই বেশি মানায়। বর্তমানে আলোচিত ঢাকাই ছবির নায়িকা পরীমণি। কাজের চেয়ে অকাজের মাধ্যমেই নিজের নাম চেনাতে তিনি উঠেপড়ে লেগেছেন। উত্তরা বোট হাউজক্লাব থেকে পরীর গল্পের শুরু। এখনও থামেনি। একের পর এক বিতর্কিত কাজকারবার করে এখন তিনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে চারদিনের রিমান্ডে আছেন। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদ-ে দ-িত হতে পারেন।

চিত্রনায়িকা পরীমণি, কথিত মডেল পিয়াসা, মৌ, প্রযোজক রাজ, হেলেনা জাহাঙ্গীর ও মিশুর বিরুদ্ধে মামলা তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত শনিবার তাদের প্রত্যেকের বাসায় তল্লাশি অভিযানে অনেক আলামত জব্দ করা হয়েছে। তাদের বস্ন্যাকমেইলিং, অপরাধ ও অনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত অনেকের নাম জেনেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল রোববার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা বলেন অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক।

সমপ্রতি গ্রেফতার আওয়ামী মহিলা লীগের উপকমিটি থেকে বহিষ্কার হওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীর, আলোচিত নায়িকা পরীমণি, কথিত মডেল ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা, মরিয়ম আক্তার মৌ, প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ ও শরিফুল হাসান মিশুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক বলেন, আমরা গত শনিবার একসঙ্গে ছয়জন মূল আসামির বাসায় তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছি। কিছু আলামত ও ডিভাইস উদ্ধার করেছি। ল্যাপটপ, ডেস্কটপ পাসপোর্ট, মোবাইল, হার্ডডিস্ক ও ফেরারি গাড়ি জব্দ করেছি। তদন্তের অংশ হিসেবে এই তল্লাশি অভিযান। তিনি বলেন, আমরা পরীমণি, পিয়াসা, মৌ, রাজসহ প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আমরা জব্দ করা আলামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আমরা তদন্তের এই পর্যায়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। তবে এই মুহূর্তে তা বলা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের প্রতারণা, অনৈতিক কার্যক্রম ও বস্ন্যাকমেইলিংয়ের মতো অপকর্মের সঙ্গে জড়িত নানা পেশার অনেক নাম আমরা জেনেছি। এসব যাচাইবাছাই করছি। যাদের নাম এসেছে তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, আমরা যে মামলাগুলো তদন্ত করছি তা প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত। অন্য বিষয়ে তথ্য বা অভিযোগ এলে বা থেকে থাকলেও আমরা আমলে নেব। সিআইডির হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে থাকা ছয় আসামির বিরুদ্ধেই মাদক রাখা ও পার্টির নামে জিম্মি ও বস্ন্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ভিকটিম পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো ভিকটিম অভিযোগ করেননি। তবে আমরা বেশ কিছু ভিকটিমের নাম জেনেছি। আমরা পরীমণি ও পিয়াসাদের দ্বারা বস্ন্যাকমেইলের সত্যতা পেয়েছি। পরীমনি-পিয়াসাদের জিজ্ঞাসাবাদে যাদের নাম এসেছে তাদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। কোনো ইনোসেন্ট লোক যাতে ক্ষতি বা মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার না হন সেটিও আমরা বিবেচনায় রেখেছি। পুরোপুরি সত্যতা ছাড়া আমরা কারো নাম ডিসক্লোজ করছি না। যদিও কিছু পত্রিকায় সিআইডির বরাতে নাম আসছে। তবে এসব তথ্য সিআইডি দেয়নি। আরেক প্রশ্নের জবাবে ওমর ফারুক বলেন, সত্যিকারের ভিকটিমদের আমরা খুঁজছি। তাদের বক্তব্য আমরা শুনব। আমরা পুরোপুরি সত্যতার ভিত্তিতে জড়িতদের আটক করব, জিজ্ঞাসাবাদ করব। পরীমণির বাসায় তল্ল্লাশি অভিযানে কী জব্দ করা হয়েছে জানতে চাইলে ওমর ফারুক বলেন, অনেক কিছুই জব্দ করেছি। তা ফরেনসিক করা হচ্ছে। পরীমণিসহ ৬ আসামির বস্ন্ল্যাকমেইল ও অনৈতিক কর্মকা-ে জড়িত কাউকে ছাড় দেবে না সিআইডি। তদন্তের স্বার্থে পরীমণিসহ আমাদের হেফাজতে থাকা প্রত্যেক আসামিকে প্রয়োজনে ফের রিমান্ড আবেদন করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

পরীমণি ও পিয়াসার মোবাইল ফোনের কললিস্ট যাচাইবাছাই করছে সিআইডি (অপরাধ তদন্ত বিভাগ)। তাদের সঙ্গে কথোপকথনের রেকর্ডও উদ্ধার হয়েছে। সিআইডি তাদের ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসআপ ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। তাদের মোবাইল ফোন থেকে প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তির অডিও রেকর্ডও ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ভিডিও ফুটেজ ও অডিও রেকর্ডদিয়ে পরীমণি ও পিয়াসা প্রভাবশালী দের বস্ন্যাকমেইল করতেন। মডেল পিয়াসার সঙ্গে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম মোকাম্মেল হক চৌধুরীর মোবাইল ফোনে কথোপকথনের অডিও রেকর্ড উদ্ধার হয়েছে। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সি্যুওরেন্সের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের সঙ্গে মডেল মরিয়ম আক্তার মৌয়ের গোপন ভিডিও রয়েছে। পিয়াসার সঙ্গে একজন অলংকার ব্যবসায়ীর বেশ কয়েকটি অডিও রেকর্ডপেয়েছে সিআইডি। প্রাপ্ত অডিও রেকর্ডে পিয়াসাকে মূল্যবান অলঙ্কার উপহার দেবার কথা বলা আছে। পরীমনির কাছ থেকে পাওয়া কল রেকর্ডে একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কল রেকর্ড পাওয়া গেছে, যেখানে পরীকে একটি গাড়ি উপহার দেবার কথা হয়েছে। ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরীমণির গভীর সখ্যের বিষয়টি কথোপকথনে উঠে এসেছে। বাংলাদেশে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে পরীমণির মোবাইল ফোনে কথা হতো। অন্যদিকে ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রেমস বাওয়ানীর সঙ্গে পিয়াসার একটি ক্লাবে সময় কাটানোর ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। গুলশানে একটি দামি ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রির শোরুমের মালিক ইবনুল হাসান খোকনের সঙ্গে পরীমণি ও পিয়াসার বহুবার কথোপকথন হয়েছে মোবাইল ফোনে। মদ বিক্রির দোকানের মালিক রানা শফিউল্লাহর সঙ্গে পিয়াসার লংড্রাইভে যাওয়ার কথোপকথন রয়েছে। বাংলাদেশে গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিটার সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি হাবিবুল্লাহ ডনের সঙ্গে পিয়াসার হোয়াটসআপে বেশ কয়েকবার কথোপকথন হয়েছে। তার মালিকানাধীন গুলশানের গাড়ির শোরুম অটো মিউজিয়ামে চোরাই গাড়ি বিক্রি হয়। মডেল পিয়াসা ওই চোরাই গাড়ি সিন্ডিকেটের সদস্য।

সিআইডির একজন কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মোবাইল ফোন ও ফেসবুক আইডি তল্লাশি করে প্রভাবশালী ২১ ব্যক্তির সঙ্গে পিয়াসা, পরীমণি ও মৌয়ের যোগাযোগ থাকার তথ্য মিলেছে। এছাড়াও পিয়াসার মোবাইল ফোনের কললিস্টে আরো বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর ফোন নম্বর পাওয়া গিয়েছে। তাদেরকে ব্ল্যাকমেইল করে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করে নিতেন পিয়াসা।