সংবাদ শিরোনামঃ
লক্ষ্মীপুর জেলায় ৮ম: বারের মতো শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হলে মোঃ এমদাদুল হক দালাল বাজার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে কাকে ভোট দিবেন? লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী কাজল খাঁনের গণজোয়ার লক্ষ্মীপুরের উপশহর দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পাঁচজন,কে হবেন চেয়ারম্যান ? বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ওমান সুর শাখার সহ-সাধারন সম্পাদক কামাল হোসেনের ঈদের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক এমপি ও মন্ত্রী হতে নয় বরং মানুষের পাশে দাঁড়াতে আ.লীগ করি, সুজিত রায় নন্দী বাড়ছে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য, নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ চাই বাড়ছে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য, নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ চাই লক্ষ্মীপুরে বিনা তদবিরে পুলিশে চাকরি পেল ৪৪ নারী-পুরুষ দুস্থ মানবতার সেবায় এগিয়ে আসা “সমিতি ওমান ” কর্তৃক চট্টগ্রামে ইফতার সামগ্রী বিতরণ দলিল যার, জমি তার- নিশ্চিতে আইন পাস লক্ষ্মীপুরে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে পবিত্র কুমার  লক্ষ্মীপুর সংরক্ষিত আসনের মহিলা সাংসদ আশ্রাফুন নেসা পারুল রায়পুরে খেজুর রস চুরির প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগ লক্ষ্মীপুরে আলোচিত রীয়া ধর্ষণের বিষয়ে আদালতে মামলা
সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্মীপুরেও ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াবহ অবস্থায় জনগণ আতঙ্কিত

সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্মীপুরেও ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াবহ অবস্থায় জনগণ আতঙ্কিত

লক্ষ্মীপুর থেকে ভি বি রায় চৌধুরী – বাংলাদেশে মাঝেমধ্যেই দেখা দেয় ডেঙ্গুজ্বরের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব। কখনাে কখনাে এই জ্বর মহামারীরূপে দেখা দেয়। তবে সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে ভয়ংকর আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গুজ্বর। এই মহামারী জ্বরে সমগ্র দেশে মৃত্যুবরণ করেছে অনেক মানুষ। সারা দেশে মানুষের মনে ছড়িয়ে পড়েছে ডেগুজ্বরের আতঙ্ক। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে গােটা বিশ্বে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছিল প্রায় দুই কোটি মানুষ।
সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর জেলায়ও ডেঙ্গুর ভয়াবহতা প্রতিয়মান। সদর হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি আছেন ৫৭ জন রোগী, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: আনোয়ার হোসেন। তিনি আরো বলেন আমরা ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগী পেলেই তাকে দ্রুত চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করে সুস্থতা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি ও ন্যাশনাল প্রটোকল মাধ্যমে সারিয়ে তুলতে চেষ্টা করি। জনগণের জন্য এই মূহুর্তে আপনারা কি পরামর্শ দিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন জ্বর হলেই এনএস ওয়ান রক্তে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে হবে,পজেটিভ হলে শুধু মাত্র প্যারাসিটামল টেবলেট ছাড়া কোন ব্যাথা নাশক ঔষদ খাবে না এবং ওআরএস সহ বেশি বেশি পানি পান ও তরল খাবার, ভিটামিন সি খেতে হবে। সবচেয়ে ইমপটেন্ট বিষয় হচ্ছে সার্বক্ষণিক মশারী টাঙ্গীয়ে মশারীর ভিতরে থাকতে হবে। ডেঙ্গুজ্বর নিশ্চিত হওয়া রোগীকে পাঁচ থেকে সাতদিন মশারীর খাটিয়ে মশারীর ভিতর থাকতে হবে বলে তিনি জানান।
জানা যায় ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত ভাইরাসজনিত একধরনের তীব্র জ্বর। ডেঙ্গু সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। যেমন- ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গুজ্বর ও হেমােরেজিক ডেঙ্গুত্বর। ডেঙ্গু দুই প্রজাতির স্ত্রী মশা দ্বারা ছড়ায়। এর একটি হচ্ছে এডিস এজিপটাই ও অন্যটি এডিস এলকোপিপটাস। এডিস এজিপটাই স্ত্রী মশা কোনাে ব্যক্তিকে কামড় দিলে সেই মশাটিও ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এরা দিনের বেলায় কামড়ায়। এই মশা ডিম পাড়ে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম পাত্রের পানিতে যেমন- ফুলদানি, ফুলের টব, হাঁড়ির ভাঙা অংশ, পরিত্যক্ত টায়ার, মুখ খােলা পানির ট্যাংক, জলকাদা, ডাবের খােসা ইত্যাদি। সাধারণত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে মাংপেশি ও হাড়ে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। দেহের তাপমাত্রা ১০৪ থেকে ১০৫ ডিগ্রিতে উঠে যায়। মাথা ও চোখের মাংসপেশি ব্যথা, বমি বমি ভাব, বিষন্নতার ছাপ এবং দেহে এক ধরনের ফুসকুড়ি ওঠে। কখনাে কখনাে মাংসপেশির খিচুনিতে রােগী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। শিশু-কিশােররা এ জ্বরে আক্রান্ত হয় বেশি। ভয়াবহ ডেঙ্গুজ্বরের কোনাে চিকিৎসা নেই। নেই প্যাটেন্টকৃত কোনাে ওষুধ। উপসর্গ দেখে চিকিৎসা করতে হয়। রােগীকে পুরােপুরি বিশ্রামে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। মারাত্মক উপসর্গ দেখা দিলে রােগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। জ্বর কমানাের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তবে এসপিরিন বা এ জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়। রােগীকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা করতে হবে। মারাত্মক আক্রান্ত রােগীর ক্ষেত্রে পানিস্বল্পতা এবং রক্তক্ষরণের চিকিৎসার জন্য আইভি স্যালাইন বা রক্ত সঞালনের প্রয়ােজন হতে পারে। তবে এডিস মশা যেহেতু ডেঙ্গুজ্বরের বাহক, তাই বাহক মশা দমন করাই ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরােধের প্রধান উপায়। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় হলাে- বাসগৃহে ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খােসা ইত্যাদিতে জমে থাকা পানি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। দিনের বেলায় মশারি ব্যবহার করা। অর্থাৎ রােগ ছড়ানাের আগেই এডিস মশা নির্মূল করে ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরােধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। স্কুল-কলেজের ছাত্রশিক্ষক এবং অভিভাবকসহ দেশের আপামর জনগণ সচেতন হলেই ভয়াবহ ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরােধ সম্ভব।