সংবাদ শিরোনামঃ
দালাল বাজার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে কাকে ভোট দিবেন? লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী কাজল খাঁনের গণজোয়ার লক্ষ্মীপুরের উপশহর দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পাঁচজন,কে হবেন চেয়ারম্যান ? বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ওমান সুর শাখার সহ-সাধারন সম্পাদক কামাল হোসেনের ঈদের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক এমপি ও মন্ত্রী হতে নয় বরং মানুষের পাশে দাঁড়াতে আ.লীগ করি, সুজিত রায় নন্দী বাড়ছে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য, নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ চাই বাড়ছে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য, নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ চাই লক্ষ্মীপুরে বিনা তদবিরে পুলিশে চাকরি পেল ৪৪ নারী-পুরুষ দুস্থ মানবতার সেবায় এগিয়ে আসা “সমিতি ওমান ” কর্তৃক চট্টগ্রামে ইফতার সামগ্রী বিতরণ দলিল যার, জমি তার- নিশ্চিতে আইন পাস লক্ষ্মীপুরে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে পবিত্র কুমার  লক্ষ্মীপুর সংরক্ষিত আসনের মহিলা সাংসদ আশ্রাফুন নেসা পারুল রায়পুরে খেজুর রস চুরির প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগ লক্ষ্মীপুরে আলোচিত রীয়া ধর্ষণের বিষয়ে আদালতে মামলা তিনশ’ বছরের ঐতিহাসিক ‘খোয়াসাগর দিঘি’র নাম পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই, জেলা প্রশাসক’
রামগঞ্জ পৌর নির্বাচনে একাধিক কেন্দ্রে হামলা-সংঘর্ষ: আহত ১০, আটক দুই

রামগঞ্জ পৌর নির্বাচনে একাধিক কেন্দ্রে হামলা-সংঘর্ষ: আহত ১০, আটক দুই

মিজানুর শামিম -লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌর নির্বাচনে একাধিক ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টায় হামলা ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এসময় এক পুলিশ সদস্যসহ ১০ জন আহত হয়েছেন এবং দুইজনকে আটক করা হয়।

পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কাজিরখিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কাজিরখিল বালুয়া চৌমুহনী ভোট কেন্দ্রের সামনের সড়কে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে কৌশিক নামে এক পুলিশ সদস্য সহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

৩০ জানুয়ারি শনিবার বেলা ১১টার দিকে কাউন্সিলর প্রার্থী আনোয়ার হোসেন জিতুর ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মামুনুর রশিদ। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আনোয়ার হোসেন জিতু বলেন, মামুনের লোকজন আমাদের মেরে গৃহবন্দী করে রেখেছে। আমার ছোট ভাই সোহেল গুরুতর আহত হয়ে চাটখিল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এসময় আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ভোট কেন্দ্র এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। দুই পক্ষের নেতা কর্মীদের মধ্যে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন।

খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামান ও অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রিয়াজুল কবিরসহ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আখতার জাহান সাথী। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে। আহতদের তাৎক্ষণিক নাম -পরিচয় জানা যায়নি।

অন্যদিকে ৮নং ওয়ার্ডের টামটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেছে কাউন্সিলর প্রার্থীর লোকজন। এ সময় প্রায় ২৫/৩০ টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে।এতে প্রায় দুই শতাধিক ভোটারকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয় হামলাকারীরা। এদের মধ্যে বেশিরভাগ নারী ভোটার ছিলো। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এবং বিজিবি সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কেন্দ্রের ভেতর মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর এজেন্টকে আটক করে পুলিশ। হামলারীরা ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী উটপাখির সমর্থক বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল থেকে টামটা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে উপচেপড়া ভোটারদের উপস্থিতি ছিলো। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ প্রায় অর্ধশতাধিক কিশোর এবং যুবক লাঠি হাতে কেন্দ্রে প্রবেশ করে ভোটারদের কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

এ সময় তারা ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। হামলারীরা কেন্দ্রের ভোট কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে। এ সময় ভোট কক্ষের ভেতরে প্রার্থীদের এজেন্টদের মধ্য হট্রগোল সৃষ্টি হলে ভোট গ্রহণ সাময়িক বন্ধ থাকে। কেন্দ্র এবং কেন্দ্রের বাহিরে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

পরে অতিরিক্ত পুলিশ এবং অাইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আসলে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যায়। এ সময় কয়েকজনকে লাঠিপেটা করে পুলিশ।
দুপুর ১টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হলে পুলিশ ভোট কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করার অভিযোগে আনিসুর রহমান ও শামীম হোসেন নামে দুইজনকে অাটক করে। এদের মধ্যে শামীম হোসেন কাউন্সিলর প্রার্থী গাজর প্রতীকের মামুন ভুঁইয়ার ভাই বলে জানা গেছে।

এদিকে, কেন্দ্রে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ায় ভোটারদের উপস্থিতি কমে যায়। ঘটনার পর পরই সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কেন্দ্রের দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার শামসুল আরিফ জানান, কেন্দ্রের বাহিরে বহিরাগতরা হট্রগোল সৃষ্টি করলে ১০ মিনিটের মতো ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করলে পুনরায় ভোট গ্রহন শুরু হয়।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, কেন্দ্রর ভেতরে এজেন্টদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ। মোবাইল ফোনে মাধ্যমে আটককৃতরা বাহিরে বিভিন্ন তথ্য পাচার করে পরিস্থিতি অশান্ত করার চেষ্টা করে। তাই তাদের আটক করে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়, রামগঞ্জে ১৭টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৯টিই ঝূঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে পশ্চিম কাজীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রও ছিল। সংঘর্ষ এড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ-বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে বলে জানান দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আখতার জাহান সাথী।