সংবাদ শিরোনামঃ
উপজেলা নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ না নিতে এমপি আনোয়ার খাঁনকে চিঠি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট রহমত উল্যাহ বিপ্লবের কিছু কথা লক্ষ্মীপুরের কৃতিসন্তান আনোয়ারুল হক ছলেমা খাতুন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কামাল ফার্মারের  জন্মদিনে তিনি সকলের আশির্বাদ /দোয়া প্রার্থী লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদি ইউপি নির্বাচনে মীর শাহআলম চেয়ারম্যান নির্বাচিত লক্ষ্মীপুরের উপশহর দালাল বাজার ইউপি নির্বাচনে এডভোকেট নজরুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত অনিয়মে চাকরিচ্যুত হবেন কর্মকর্তারা, ফেক্ট- উপজেলা পরিষদ নির্বাচন লক্ষ্মীপুরে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ পুরস্কার নিয়ে বির্তক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন লক্ষ্মীপুর -১ আসনের ড, আনোয়ার খান এম পির বড় ভাই আখতার খান রায়পুর উপজেলার উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে পুনরায় অধ্যক্ষ মামুনের চেয়ারম্যান হওয়া প্রয়োজন লক্ষ্মীপুর জেলায় ৮ম: বারের মতো শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হলে মোঃ এমদাদুল হক দালাল বাজার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে কাকে ভোট দিবেন? লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী কাজল খাঁনের গণজোয়ার লক্ষ্মীপুরের উপশহর দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পাঁচজন,কে হবেন চেয়ারম্যান ? বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ওমান সুর শাখার সহ-সাধারন সম্পাদক কামাল হোসেনের ঈদের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক এমপি ও মন্ত্রী হতে নয় বরং মানুষের পাশে দাঁড়াতে আ.লীগ করি, সুজিত রায় নন্দী
বাংলাদেশেে করোনাভাইরাসে নতুন আক্রান্ত ৯৪ মৃত্যু ৬

বাংলাদেশেে করোনাভাইরাসে নতুন আক্রান্ত ৯৪ মৃত্যু ৬

 

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৪২৪ জনে পৌঁছেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯৪ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মারা গেছেন ৬ জন। এতে দেশের মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৭ জনে পৌঁছেছে।

করোনাভাইরাস এর সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা থেকে সরাসরি অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা। এতে যুক্ত হন রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা হয়েছে ১১৮৪ জনের। একদিনে এটাই সর্বোচ্চসংখ্যক পরীক্ষা। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার ৩৭ জন এবং নারায়ণগঞ্জের ১৬ জন রয়েছেন।

নতুন আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৬৯ জন, নারী ২৫ জন। ১০ বছরের নিচে ৪ জন, ১১-২০ এর মধ্যে ৬, ২১-৩০ এর মধ্যে ১২ জন, ৩১-৪০ এর মধ্যে ২৯, ৪১-৫০ এর মধ্যে ১৬ জন, ৫১-৬০ এর মধ্যে ১৪ এবং বাকিরা ষাটোর্ধ্ব। মৃত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, একজন নারী। তাদের মধ্যে তিনজন ঢাকার, দুজন নারায়ণগঞ্জের এবং একজন পটুয়াখালীর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সানিয়া তহমিনা ব্রিফিংয়ে জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৯৭টি নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষা হয়েছে ১১৮৪ জনের। আগের দিনের তুলনায় নমুনা সংগ্রহ ৩১ শতাংশ বেড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা বেড়েছে ১৮ শতাংশ। এই সময়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার ৬৬০টি

ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম-পিপিই সংগ্রহ করা হয়েছে, ৪১ হাজার ৫০০টি বিতরণ হয়েছে এবং ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৭২টি পিপিই মজুদ রয়েছে। মোট ১২ হাজার ৬০১ জন এখন হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন জানিয়ে অধ্যাপক তহমিনা বলেন, আমাদের যে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের ক্যাপাসিটি, সেটা আগের চেয়ে বেড়েছে। সারা দেশে সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য ৪৭০টি প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুুত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে কোয়ারেন্টিনের সেবা প্রদান করতে পারব ২৪ হাজার ৪৯২ জনকে। অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, সারা দেশে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৫ জন চিকিৎসক ও ১ হাজার ৫৪ জন নার্সকে কোভিড-১৯ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নভেল করোনাভাইরাসের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে প্রতিনিয়ত নততু তথ্য পাওয়ার প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য পরামর্শও বদলে যেতে পারে বলে জানান তিনি।

সানিয়া তহমিনা বলেন, প্রতিনিয়ত গবেষণা করে বিভিন্ন রকম তথ্য উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে। সাত দিন আগে আমরা যে পরামর্শ দিয়েছি, সাত দিন পরে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে। কারণ এটা একটা নতুন ভাইরাস। ?সুতরাং যেটা আমরা বলছি, সেটা যদি অন্য কোনো সূত্র থেকে অন্যরকম পাওয়া যায়, সেটা আমরাও বলব। বুঝতে হবে যখন নভেল ভাইরাস আসে তখন নানারকম চেইঞ্জ হয়। এটাকে আপনারা আমাদের অজ্ঞতা হিসেবে না নিয়ে, আমরা যেটুকু জানতাম, সেটুকু আপনাদের কাছে বলেছি। যদি সেখানে কোনো পরিবর্তন হয়, তাহলে অবশ্যই সেটা আমরা আপনাদের জানিয়ে দেব। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সোশাল ডিসট্যান্সিং বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে আসছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।সোশাল ডিসট্যান্সিং শব্দবন্ধটির বাংলা অনুবাদে এদিন নতুন একটি শব্দবন্ধ প্রস্তাব করেন সানিয়া তহমিনা। স্বাভাবিকভাবে আমরা বলছি সামাজিক দূরত্ব। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব করছি না আমরা, আমরা করছি শারীরিক দূরত্ব। এক জন আরেকজন থেকে কমপক্ষে ৩ ফুট শারীরিক দূরত্বে থাকব। সেটা বাসার বাইরে তো অবশ্যই, বাসার ভেতরেও এটা অবশ্যই থাকা উচিৎ। যারা অতি প্রয়োজনীয় কাজের সাথে যুক্ত, যেমন আমাদের স্বাস্থ্যকর্মী, মিডিয়াকর্মী, পুলিশ বাহিনীর সদস্য, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নার্স, পানি বিতরণ করেন ওয়াসার লোক, তাদের বাইরে যেতে হয়। বাসায় ঢুকে তারা যেন কোনো মানুষ বা জিনিস স্পর্শ করার আগে কাপড় ধুয়ে ফেলেন, গোসল করে ফেলেন। আমরা জানি না বাসার ভেতরে কারা অ্যাসিমটপিক কারা আছেন, তাই বাসার ভেতরে আমরা তিন ফুট দূরত্বে থাকব।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১০৯৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১১২ জনের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাতে আক্রান্তের মোট সংখ্যা একলাফে বেড়ে হয়েছে ৩৩০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে আরও একজন গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন, তাতে দেশে কোভিড-১৯ এ মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২১ জন। গত এক দিনে নতুন করে কারও সুস্থ হওয়ার খবর আসেনি। এখন পর্যন্ত মোট ৩৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।

আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের টেস্টের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, আগে একটা ল্যাবরেটরিতে হত এখন ১৭টা জায়গায় হয়, টেস্টের সংখ্যা বেড়েছে বিধায় আমরা বুঝতে পারছি আক্রান্তের হার কেমন। জাহিদ মালেক দাবি করেন, করোনাভাইরাসের কারণে সব কিছুর চাকা থেমে গেলেও ‘মনোবল ভাঙেনি’। আমরা যুদ্ধ করে চলেছি। আমরা গতকালই চায়নার উহানে যারা করোনাভাইরাস মোকাবেলা করেছিল, তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেছি। তারা আমাদের বেশকিছু বিষয় জানিয়েছেন। আমরা সেখান থেকে কিছু অ্যাডভাইজ গ্রহণ করেছি। সেভাবেই আমরা কাজ করেছি। চীনের চিকিৎসকরা বাংলাদেশে বেশি বেশি পরীক্ষা করতে এবং সবাইকে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটাই হচ্ছে মূলমন্ত্র। ঘরে থাকলে রোগটা অন্যের কাছে সংক্রমিত হবে না। বেশি বেশি পরীক্ষা করলে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও আমাদের একই ধরনের পরামর্শ দিয়েছেন। আমাদের তিনি প্রতিনিয়ত পরামর্শ দিচ্ছেন। আগে এই অনলাইন ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ থাকলেও এখন তা বন্ধ করে দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একে বলছে ‘স্বাস্থ্য বুলেটিন’। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা এবং আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাও উপস্থিত ছিলেন ব্রিফিংয়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মুবিন খান, সাধারণ সম্পাদক ডা. এনামুর রহমানও বাইরে থেকে ব্রিফিংয়ে যোগ দেন। নতুন আক্রান্তদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, ১১২ জনের মধ্যে ৭০ জন পুরুষ, ৪২ জন নারী। তাদের মধ্যে ৬২ জনই ঢাকায়, ১৩ জন নারায়ণগঞ্জের, বাকিরা দেশের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। এদের মধ্যে ৩ জনের বয়স ১০ বছরের নিচে। ১১ থেকে ২০ বছরের ৯ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের ১৫ জন, ৩১ খেকে ৪০ বছরের ২৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ১৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের ২৩ জন। ৬০ বছরের বেশি বয়স- এমন আছেন ১২ জন। যিনি মারা গেছেন, তার বয়স ৬০ বছরের বেশি ছিল জানিয়ে অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, তিনি ঢাকার। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রতিদিনই আমরা কাউকে না কাউকে হারাচ্ছি।

আমাদের পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানায়, ঢাকার বাইরে করোনার প্রকোপ বেশি নারায়ণগঞ্জ জেলায়। এখান থেকে সারাদেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে নারায়ণগঞ্জকে করোনা ভাইরাসের হটস্পট হিসাবে উল্লেখ করেছেন আইইডিসিআর এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। পটুয়াখালীতে প্রথম করোনা রোগী এবং প্রথম মৃত্যু নারায়ণগঞ্জফেরত এক পোশাক কর্মীর। গত বৃহস্পতিবার মারা যান ওই পোশাককর্মী। এ ভয়ের মধ্যে দল বেধে ট্রলার, ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্সে নারায়ণগঞ্জ থেকে দলবেঁধে লোকজন ছুটে আশায় আতঙ্ক সর্বত্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নারায়াণগঞ্জ ফেরতদের আটকানোর হুঁশিয়ারি, প্রশাসনও তৎপর। আর সর্বত্র একই আলোচনা নারায়ণগঞ্জ ফেরত ঠেকাও। গত চার থেকে পাঁচ দিনে দেশের অন্য কোনো এলাকার লোকজনের আগমন তেমন একটা শোনা না গেলেও নারায়াণগঞ্জে কর্মস্থল থেকে শতশত লোক বাড়ি ফিরে এসেছে। তাদের আগমনের খবর জেলা ও উপজেলা প্রশাসন জানার সাথে সাথে তারা অধিকাংশই হোম কোয়ারেন্টিন থাকার নির্দেশ দিলেও তারা তা মানছেন না। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আসা নারায়ণগঞ্জ ফেরতদের আটকানোর জন্য একটি নিউজ ছাপিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বৃহস্পতি ও শুক্রবার এ প্রতিনিধিকে অনেকে ফোন কিংবা ফেসবুকের ইনবঙ্ েঅনুরোধ করেছেন।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ ফেরতদের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। এ কারণে আতঙ্কিত সবাই। অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম্যে স্ট্যাটাস দিয়ে নারায়ণগঞ্জ ফেরতদের ঘরে আটকে রাখার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন। এ মুহুর্তে সবার দাবি নারায়ণগঞ্জ ফেরতদের ঠেকাতে পারলে করোনাকে পটুয়াখালী জেলায় বহুলাংশে রোধ করা সম্ভব হবে। কেউ আবার তাঁদের সাথে কোনো ধরণের অমানবিক আচরণ না করার দাবি তুলে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এক জনপ্রতিনিধিকেও মিনতি করে নারায়ণগঞ্জ ফেরতদের ঘরে থাকার অনুরোধ করেফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার আমলিবাড়িয়া এলাকার হাবিব ব্যাপারী নামের এক ব্যক্তি বলেন, আমাদের রাঙ্গাবালীতে ট্রলারযোগে নারায়ণগঞ্জ থেকে লোকজন আসছে। এরা বাড়ি আসুক আপত্তি নাই, কিন্তু এরা ঘরে থাকছে না। তাদের এ সংখ্যা অগণিত। যেহেতু ওখানে এ ভাইরাসের প্রভাব বেশী ধরা পড়েছে তাই এদের মাধ্যমে এখানে ছড়াতে পারে এদেরকে ঘরে আটকানোর জন্য শুধু প্রশাসন লোক দিয়ে সম্ভব না। এলাকার প্রভাবশালী নেতার দ্বারা এদের ঘরে মধ্যে ১৪ দিনের জন্য আটকাতেই হবে। প্রয়োজনে বাড়ির সামনে একজন করেচৌকিদার দিয়ে পাহারা বসানোর দাবি করেন তিনি।

বাউফল উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের রামলক্ষণ গ্রামের আল মুরাদ নামের এক যুবক বলেন, মদনপুরায় অনেক লোক এসেছে। উপজেলা প্রশাসন চেয়ারম্যান মেম্বার, চৌকিদারের মাধ্যমে এদের খোঁজ নিয়ে দ্রুত এদের ঘরবন্দি না করতে পারলে এ এলাকায় করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তর দ্বিপাশা মোল্লা বাড়িতে এক ব্যক্তি, রামলক্ষণ গ্রামের রিয়াজ সরদার নামের আরেক যুবক জ্বর নিয়ে বাড়ি এসেছে বুধবার। এরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

বাউফল পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মেয়ে এবং তার বাবা নারায়ণগঞ্জ থেকে এসে তারা প্রকাশ্যেই ঘুরছে। কালিশুরী এলাকার মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, অনেক লোকজন ট্রলার নিয়ে কালিশুরী এসেছে এদের ঘরের মধ্যে বন্দি করা জরুরি। অনেকেই প্রকাশ্যে ঘুরছে। রাজাপুর গ্রামের তুষার নামের এক যুবক নারায়ণগঞ্জ থেকে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। তাকে বারণ করলেও সে শুনছে না। এ ছাড়া ওই উপজেলার কেশবপুর, ধূলিয়া, নাজিরপুর, দাশপাড়া, কারখানা, বাহেরচর এলাকায় নারায়ণগঞ্জ থেকে অনেক লোক বাড়ি এসেছে। একই অবস্থা পটুয়াখালী সদর, দশমিনা, কলাপাড়া, দুমকি, মির্জগঞ্জ ও গলাচিপা উপজেলায়। মির্জাগঞ্জের সুবিদখালির আবু ইউসুফ বলেন, অনেক লোক নারায়ণগঞ্জ থেকে এলাকায় এসেছে তারা করোনার প্রতিরোধে কোনো নিয়মকানুন মানে না। গলাচিপা উপজেলার পৌর শহরের নুরুল আমিন বলেন, পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. শুক্কুর মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ থেকে জ্বর নিয়ে বাড়ি আসে। ওই উপজেলা প্রশাসন শুক্কুরের বাড়ি লকডাউন করলেও তা ওই পরিবারের কেউ মানছে না। এ অবস্থায় ওই এলাকার সব মানুষই চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এছাড়াও গলাচিপায় গত তিন থেকে চার দিনে প্রায় শতাধিক ব্যক্তি নারায়ণগঞ্জ থেকে গলাচিপায় এসেছে। বিভিন্নলোকজন প্রশাসনের তৎপরতা আরো জোড়াল করার দাবি জানান। এদিকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি নারায়ণগঞ্জ ফেরত ট্রলার বোঝাই একদল লোক বরগুনা জেলার আমতলি যাওয়ার উদ্যেশে পটুয়াখালীর মৌকরণ আসে। তারা ট্রলার থেকে নেমে সড়ক পথে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন ট্রলার থেকে নামতে বাধা দেয় এবং এক পর্যায়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ তাদের করোনা প্রতিরোধে সব ধরণের পরামর্শ দিয়ে ট্রলারটি আমতলির উদ্যেশে পাঠিয়ে দেয়। এনিয়ে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, অবৈধ এসব নৌযান পটুয়াখালীর জেলার কোথাও ভিড়তে দেওয়া হচ্ছে না। যেসব এলাকায় এসব নৌ-যান ভিড়তে পারে সেসব স্থানে পুলিশকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কোথাও নৌযানে করে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে এমন তথ্য থাকলে তা জেলা প্রশাসন কিংবা উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।