সংবাদ শিরোনামঃ
উপজেলা নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ না নিতে এমপি আনোয়ার খাঁনকে চিঠি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট রহমত উল্যাহ বিপ্লবের কিছু কথা লক্ষ্মীপুরের কৃতিসন্তান আনোয়ারুল হক ছলেমা খাতুন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কামাল ফার্মারের  জন্মদিনে তিনি সকলের আশির্বাদ /দোয়া প্রার্থী লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদি ইউপি নির্বাচনে মীর শাহআলম চেয়ারম্যান নির্বাচিত লক্ষ্মীপুরের উপশহর দালাল বাজার ইউপি নির্বাচনে এডভোকেট নজরুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত অনিয়মে চাকরিচ্যুত হবেন কর্মকর্তারা, ফেক্ট- উপজেলা পরিষদ নির্বাচন লক্ষ্মীপুরে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ পুরস্কার নিয়ে বির্তক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন লক্ষ্মীপুর -১ আসনের ড, আনোয়ার খান এম পির বড় ভাই আখতার খান রায়পুর উপজেলার উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে পুনরায় অধ্যক্ষ মামুনের চেয়ারম্যান হওয়া প্রয়োজন লক্ষ্মীপুর জেলায় ৮ম: বারের মতো শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হলে মোঃ এমদাদুল হক দালাল বাজার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে কাকে ভোট দিবেন? লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী কাজল খাঁনের গণজোয়ার লক্ষ্মীপুরের উপশহর দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পাঁচজন,কে হবেন চেয়ারম্যান ? বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ওমান সুর শাখার সহ-সাধারন সম্পাদক কামাল হোসেনের ঈদের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক এমপি ও মন্ত্রী হতে নয় বরং মানুষের পাশে দাঁড়াতে আ.লীগ করি, সুজিত রায় নন্দী
প্রতিকারহীন বিদ্যুতের ভুল বিল দিন দিন হয়রানি বাড়ছে

প্রতিকারহীন বিদ্যুতের ভুল বিল দিন দিন হয়রানি বাড়ছে

স্টাফ রিপোর্টার
লক্ষ্মীপুর সহ সারা দেশব্যাপি মিটার রিডাররা বাসায় কিংবা অফিসে বসেই নিজের খেয়ালখুশি মতো গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল তৈরি করছে। ওসব ভুল বিদ্যুৎ বিলের কোনো প্রতিকার মিলছে না। বরং দিন দিন হয়রানির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। বিদ্যুতের ভুল বিলে অতিষ্ঠ গ্রাহক। শহরে কিংবা গ্রামে সর্বত্রই বিদ্যুতের ভুল বিলিং অতি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গ্রাহকের হাতে অতিরিক্ত বিল ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে বিশাল অঙ্কের ভূতুড়ে বিল দেখে অনেকে অতিষ্ঠ। আবার গ্রামের সহজ-সরল মানুষগুলো আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। হয়রানি কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবার ভয়ে অনেকে ভূতুড়ে বিলই পরিশোধ করে দিচ্ছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহক এবং বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গ্রাহক যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বিতরণকারী সংস্থা-কোম্পানিগুলো তার ওপর বিদ্যুৎ বিল নির্ধারণ করে। এর সঙ্গে ডিমান্ড চার্জ এবং মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) যুক্ত হয়। একজন গ্রাহক যতো বেশি পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে তার মাসিক বিল ততো বেশি মূল্যহারে নির্ধারিত হয়। বিদ্যুৎ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) লাইফ লাইনসহ (৫০ বা তার চেয়ে কম ইউনিট ব্যবহারকারী) সাত শ্রেণিতে গ্রাহকদের ভাগ করেছে। সে অনুযায়ী মাসে ০ থেকে ৭৫ ইউনিট (কিলোওয়াট) পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে গ্রাহককে প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ১৯ পয়সা হারে বিল দিতে হয়। এরপর দ্বিতীয় ধাপের (৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট) প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ৭২ পয়সা, তৃতীয় ধাপে (২০১ থেকে ৩০০) ৬ টাকা, চতুর্থ ধাপে (৩০১ থেকে ৪০০) ৬ টাকা ৩৪ পয়সা, পঞ্চম ধাপে (৪০১ থেকে ৬০০) ৯ টাকা ৯৪ পয়সা এবং ৬০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ষষ্ঠ

ধাপের গ্রাহক হিসেবে ১১ টাকা ৪৬ পয়সা হারে বিল শোধ করতে হয়। একজন গ্রাহক মাত্র ১ ইউনিট বিদ্যুতের কারণেও পরের ধাপের বিলিংয়ে পড়ে যেতে পারে। তাতে টাকার অঙ্কেও ব্যাপক তারতম্য হতে পারে। তাই মিটার রিডাররা ইচ্ছে করেই ইউনিট কমবেশি লিখে গ্রাহককে ভূতুড়ে বিলের ফাঁদে ফেলে দিচ্ছে।

সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর দায়িত্ব প্রতি মাসে গ্রাহকদের ঘরে ঘরে গিয়ে মিটার দেখে বিল প্রস্তুত। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাস্তবে তা অনুসরণ করা হয় না। ফলে বরাবরই বড় সংখ্যক গ্রাহক ভূতুড়ে কিংবা অতিরিক্ত কিংবা ভুল বিলিংয়ের শিকার হলেও ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই অভিযোগ করে না। শীত এবং গরমকালভেদে বিদ্যুৎ ব্যবহারে পার্থক্য হয়। শীতকালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) এবং ফ্যানের ব্যবহার কম হওয়ায় বিদ্যুতের ব্যবহারও কমে। আর গরমে তা বেড়ে যায়। কিন্তু মিটার রিডার মিটার না দেখে তার মাসিক বিল করে দেয়। তাদের দায়িত্বে অবহেলাজনিত বিলিং জালিয়াতির কারণে কোনো কোনো গ্রাহককে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৬ টাকা ৩৪ পয়সার পরিবর্তে ৯ টাকা ৯৪ পয়সা হারে পরিশোধ করতে হবে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য ওই অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করা কঠিন। আর কঠিন দায়ই বছরের পর বছর অগণিত গ্রাহক বয়ে বেড়াচ্ছে।

সূত্র আরো জানায়, বছরের পর বছর ধরে বিদ্যুতের ভুল বিলিং ধারা চললেও সমাধান মিলছে না। মিটার রিডারদের দায়িত্বে এ ধরনের অবহেলার কারণে গ্রাহকদের পকেট থেকে একটি বড় অংকের অর্থ বের হয়ে যায়। যা মূলত গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতি। কিন্তু তার প্রতিকারে কোনো উদ্যোগ নেই। বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অভিমত, গ্রাহকদের নিজেদেরকেই ওই ভুল এবং জালিয়াতি বন্ধে উদ্যোগী হতে হবে। আর যতোদিন সব গ্রাহকের আঙ্গিনায় প্রিপেইড মিটার না বসছে, ততোদিন এ অসংগতি ও হয়রানির টেকসই সমাধানও হবে না।

এ প্রসঙ্গে ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কাওসার আমীর আলী জানান, মিটার রিডিংয়ের ব্যাপারে বিতরণ কোম্পানির যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি গ্রাহকদেরও সচেতন হয়ে সঠিক ইউনিট অনুযায়ী বিল বুঝে নেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। কোম্পানির প্রতিনিধি ভুল করলে গ্রাহক তা ধরিয়ে দিতে পারে। প্রতিটি মিটারের সঙ্গে মিটার কার্ড দেয়া থাকে। সেটিতে মিটার রিডারের প্রতি মাসের রিডিং লিপিবদ্ধ করার নিয়ম রয়েছে। গ্রাহক তা সংরক্ষণ এবং মিটারের সঙ্গে মিলিয়ে নিলেই ওই ভুল এড়িয়ে যাওয়া বা সংশোধন করা সম্ভব হয়। আর স্থায়ী সমাধানের জন্য সব গ্রাহককেই প্রিপেইড মিটার দেয়ার প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২২ সালের মধ্যে সব গ্রাহকের আঙিনায় প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হবে।