সংবাদ শিরোনামঃ
উপজেলা নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ না নিতে এমপি আনোয়ার খাঁনকে চিঠি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট রহমত উল্যাহ বিপ্লবের কিছু কথা লক্ষ্মীপুরের কৃতিসন্তান আনোয়ারুল হক ছলেমা খাতুন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কামাল ফার্মারের  জন্মদিনে তিনি সকলের আশির্বাদ /দোয়া প্রার্থী লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদি ইউপি নির্বাচনে মীর শাহআলম চেয়ারম্যান নির্বাচিত লক্ষ্মীপুরের উপশহর দালাল বাজার ইউপি নির্বাচনে এডভোকেট নজরুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত অনিয়মে চাকরিচ্যুত হবেন কর্মকর্তারা, ফেক্ট- উপজেলা পরিষদ নির্বাচন লক্ষ্মীপুরে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ পুরস্কার নিয়ে বির্তক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন লক্ষ্মীপুর -১ আসনের ড, আনোয়ার খান এম পির বড় ভাই আখতার খান রায়পুর উপজেলার উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে পুনরায় অধ্যক্ষ মামুনের চেয়ারম্যান হওয়া প্রয়োজন লক্ষ্মীপুর জেলায় ৮ম: বারের মতো শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হলে মোঃ এমদাদুল হক দালাল বাজার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে কাকে ভোট দিবেন? লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী কাজল খাঁনের গণজোয়ার লক্ষ্মীপুরের উপশহর দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পাঁচজন,কে হবেন চেয়ারম্যান ? বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ওমান সুর শাখার সহ-সাধারন সম্পাদক কামাল হোসেনের ঈদের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক এমপি ও মন্ত্রী হতে নয় বরং মানুষের পাশে দাঁড়াতে আ.লীগ করি, সুজিত রায় নন্দী
প্রকৃত মুক্তি যুদ্ধারা কেন স্বীকৃতি পেতে গড়িমসি

প্রকৃত মুক্তি যুদ্ধারা কেন স্বীকৃতি পেতে গড়িমসি

ভি বি রায় চৌধুরী-লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের ৩ নং দালাল বাজার ইউনিয়নের মৃত ডাঃ আবদুল সালাম মিঞার জেষ্ঠ পুত্র সদ্য মৃত মরহুম তোফায়েল আহম্মদ মিঞা। যিনি ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ খৃষ্টাব্দে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি দিয়েছেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেও স্বার্থান্বেষী মহলের কালো হাতের ইশারায় পান নি কোন সনদ বিষয়টি আক্ষেপ করে আমাদের এপ্রতিবেদকে জানান তাঁরই বড় ছেলে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রিয়া বিষয়ক উপকমিটির সদস্য মোঃ আবুল বাশার। তিনি আরো বলেন আমি আমার বাবার থেকে শুনেছি, ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু যখন জেল থেকে মুক্তি পেয়ে নোয়াখালীতে রাজনৈতিক সভা করতে রামগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর সড়ক হয়ে যাওয়ার পথে দালাল বাজার গাড়ি বহর থামিয়ে বঙ্গবন্ধুকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মহাপ্রভুর বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর সাথে আমার বাবা তোফায়েল আহম্মদ মিঞা কথা বলেন, বঙ্গবন্ধু তোফায়েল আহম্মদ মিঞার ঘাড়ের উপর হাত দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলেন। এই উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত দুলাল বাবু(জমিদার)এড, আক্তারুজ্জামান, এড, মুজাফফর, এড, আহমদুল্লা, মোহম্মদ উল্যা মাস্টার, শাহাদাত হোসেন(সাধু ডিলার) সহ কয়েক হাজার মানুষকে মুক্তি যুদ্ধের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সিরাজুল হক( মাইলের মাথা)নামিয় এক ব্যক্তির জন্য একটি থাকার জায়গা ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য তোফায়েল আহম্মদ মিঞা বঙ্গবন্ধুর নিকট অনুরোধ করেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন আমি ক্ষমতায় আসলে তোর এই অনুরোধ রাখবো। বঙ্গবন্ধু ক্ষমতায় আসার পর পূর্ব পতিশ্রুত বিষয়টি রক্ষা করেন, সিরাজুল হকের নামে দালাল জমিদার বাড়ির সংলগ্নে একখন্ড জমি বরাদ্দ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

আমার বাবা মুক্তি যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মুক্তি যুদ্ধে সক্রিয় অংশ গ্রহন করেন। তিনি সুবেদার লুৎফর রহমান জোন কমান্ডার, ২ নং সেক্টরের প্লাটুন কমান্ডার হাবিলদার মেজর আব্দুল মতিন পাটোয়ারীর ডি-৩ এর ১ এর অধিনে বাঞ্ছানগর প্রাইমারী স্কুলে ট্রেনিং গ্রহন করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে পানপাড়া, কাজির দিঘির পাড়, কাপিলাতলি, রামগঞ্জ, রায়পুর,চন্দ্রগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর সহ বিভিন্ন স্থানে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। আমার বাবাদের যুদ্ধ কালীন সংশ্লিষ্ট বাহিনীর নাম ছিলো মজিব বাহিনী। ৭৫ এর পর আমার বাবা তোফায়েল আহম্মদ মিঞা বহুবার জেল খাটেন। মরহুম এডভোকেট আক্তারুজ্জামান, আহম্মদ উল্যা উকিল, মরহুম এডভোকেট মুজ্জাফর, এডভোকেট মৃত নুরুল হক, কামান খোলার জমিদার মৃত গোপেন্দ্র নারায়ন রায় চৌধুরী ওরফে দুলাল বাবু সহ আরো অনেকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জন্য বহুবার নিগৃহীত হয়েছেন।
২৬ মার্চ মুক্তি যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমার বাবার নেতৃত্বে দালাল বাজার উত্তর তেমুহানী, রামগঞ্জ, রায়পুর,তৎকালীন নোয়াখালী সড়কটি কেটে পুকুর সম করা হয়ে ছিলো। একই সময়ে আমার বাবা তোফায়েল আহম্মদ ও দুলাল বাবুর নেতৃত্বে ৪-৪-১৯৭১ সালে হাজিমারা সুইচ গেটে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঘোষণার পর যার যা কিছু আছে তা নিয়েই প্রস্তুত হও, এই ঘোষণায় সকলে লড়ার জন্য বিশাল মিছিল নিয়ে লেপ্ট রাইট করতে করতে সুইচ গেইট অভিমুখে রওনা হয়। উক্ত মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন দুলাল বাবু( গোপেন্দ্র নারায়ন রায় চৌধুরী) যিনি দোনলা বন্দুক উঁচিয়ে জয় বাংলা স্লোগানে কাঁপিয়ে সন্মুখে অগ্রসর হতে থাকেন। আমার বাবা তোফায়েল আহম্মদ মিঞা, এডভোকেট আক্তারুজ্জামান(মজিব বাহিনীর প্রধান ও কমান্ডার) সহ হাজার হাজার জনতা একই সুরে সুর মিলিয়ে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে ছিলো সেই দিন। আমার বাবা প্রথম সারির মজিব বাহিনীর সংগঠক ও মুক্তিযুদ্ধা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। অস্ত্র জমা দিলেন কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাকের নিকট দালাল বাজার হাই স্কুলে। মুক্তিযুদ্ধের যোদ্ধাদের যাচাই বাছাই কমিটিতে সকল তথ্য, সাক্ষী সহযোদ্ধা মোঃ তাজল ইসলাম গেজেট নং ১৩( হাবিলদার ধনু মিঞা লাল মুক্তি বার্তা নং -০২১০০১০৭০), আব্দুস ছাত্তার লাল বই নং ৮২৫২ মুক্তি বার্তা ০২১০০২০২০৫, ফিরোজা বেগম মেম্বার স্বামী মরহুম নাছির মিঞা, গেজেট নং ১৭৮। প্রয়োজনীয় সকল কাগজ পত্র জমা দেওয়ার পরেও যাচাই বাছাই না করিয়া আমার বাবার নাম ” গ” তালিকায় ১৮১ লিস্টভুক্ত করে। তিনি মুক্তিযোদ্ধা হয়েও কোন কালো হাতের ইশারায় সনদ প্রাপ্ত হন নি ?
উপরোক্ত বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বিনয়ের সাথে আকুল প্রার্থনা এই, আমার বাবা তোফায়েল আহম্মদ মিঞা জীবদ্দশায় সনদ প্রাপ্ত না হলেও মরণোত্তর মুক্তি যুদ্ধের সনদ প্রাপ্ত হলে তাঁর আত্মার শান্তি পাবে।