সংবাদ শিরোনামঃ
রায়পুরে খেজুর রস চুরির প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগ লক্ষ্মীপুরে আলোচিত রীয়া ধর্ষণের বিষয়ে আদালতে মামলা তিনশ’ বছরের ঐতিহাসিক ‘খোয়াসাগর দিঘি’র নাম পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই, জেলা প্রশাসক’ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রিড়া বিষয়ক উপকমিটির তৃতীয় বার সদস্য হলেন লক্ষ্মীপুরের কৃতি সন্তান আবুল বাশার লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ প্রেসক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন সভাপতি-তাহের,সম্পাদক কাউছার লক্ষ্মীপুরে মেয়ের পেটে বাবার সন্তান, প্রসব করে বাসর ঘরে লক্ষ্মীপুরের কৃতিসন্তান রোটারিয়ান ইঞ্জি: মোহা: মোহাব্বত উল্যাহ পরপারে ওমানে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ২০২৪-২৫ ইং সনের কার্যকরি কমিটি গঠন সভাপতি-ছৈয়দ হোসেন তালুকদার, সম্পাদক-জসিম উদ্দিন হায়দার, সহসাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল হোসেন নির্বাচিত লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের নির্মান কাজ ৬ বছরেও হয়নি শেষ,মারাত্মক ভোগান্তির শিকার সেবাপ্রার্থীরা মিজানুর রহমান মুকুল রামগঞ্জ প্রেসক্লাবের নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী লক্ষ্মীপুরের উপশহর দালাল বাজারে একটি গণশৌচাগার আবশ্যক, জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ লক্ষ্মীপুর সদরে স্বাধীনতা স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি মোবারক সম্পাদক মাহফুজ, যুগ্ম সম্পাদক ফয়সাল কবির প্রিন্সিপাল কাজী ফারুকী স্কুল এন্ড কলেজের ১ যুগপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ভিসি ড, এ এস এম মাকসুদ কামাল রায়পুরে ৬৫ বছরের বৃদ্ধ কৃষককে পিটিয়ে খালে ফেলে দিলেন ইউপি সদস্য আরিফুর রহমান ডিজিটাল যুগে এসে হারিয়ে গেলো কুপি(চেরাগ)
দূষিত পানি বোতল ও জারে

দূষিত পানি বোতল ও জারে

ভিবি নিউজ ডেস্কঃ
সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির কোনো বিকল্প নেই। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, শহর এবং উপশহরের  ব্যস্ত জীবনে বোতলজাত পানি বা জার পানির ওপর অধিকাংশ মানুষ নির্ভরশীল। কিন্তু এই সুযোগে যদি কিছু অসৎ ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার আশায় পানি নিয়ে অবৈধ ব্যবসা শুরু করেন, তবে তা শুধু দুঃখজনক বাস্তবতাকেই নয় বরং একটি ভয়ানক পরিস্থিতিকেও স্পষ্ট করে। যা নিরসনে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য বলেই প্রতীয়মান হয়।

যখন জানা যাচ্ছে, অনুমোদনহীন নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিশোধন ছাড়াই বিশুদ্ধ বলে বোতল বা জারে বিষাক্ত পানি সরবরাহের কারণে এখন তা মরণের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে- তখন এর ভয়াবহতাকে আমলে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সমীচীন। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, সামপ্রতিক সময়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) প্রকাশিত গবেষণায় ঢাকার ৯৭ ভাগ জারের পানিতে ক্ষতিকর মাত্রায় মানুষ ও প্রাণীর মলের জীবাণু ‘কলিফর্ম’ পাওয়ার তথ্য আসে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বোতলজাত ও জারের পানিতে আছে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া। আর এ ব্যাকটেরিয়া থেকে হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, বমিভাব, পেটব্যথা, জ্বর-ঠা-া। এমনকি এটি ধীরে ধীরে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।

আমরা বলতে চাই, শহরের অধিকাংশ মানুষ বোতলজাত ও জারের পানির ওপর নির্ভরশীল- এই পরিস্থিতিতে যদি বোতলজাত ও জারের পানিতে রোগ সৃষ্টকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, তবে তা অত্যন্ত ভীতিপ্রদ। গবেষণায় বলা হয়েছে, ১০০ মিলি জার পানির নমুনায় ১ থেকে ১৬০০ এমপিএনের বেশি ই-কলি পাওয়া গেছে, যেখানে বিএসটিআইয়ের মান অনুযায়ী শূন্য ই-কলি থাকা উচিত! আমরা বলতে চাই, বিএআরসির গবেষণায় যখন সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে, সবসময় নিরাপদ পানি, যেমন ফুটানো পানি ব্যবহার করতে হবে এবং জার পানি ও বোতলজাত পানি ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে- তখন এটি যেমন জরুরি, তেমনিভাবে অসাধু ব্যবসায়ী যারা অধিক মুনাফার আশায় পানি নিয়ে অবৈধ ব্যবসা শুরু করেন তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। উল্লেখ্য, সারাদেশ বিএসটিআইর লাইসেন্সধারী পানি উৎপাদন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩১৯টি। তবে বর্তমানে ১৯৯টি প্রতিষ্ঠান বৈধভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। আর জানা যায়, রাজধানী ঢাকায় ৮৩টি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইর লাইসেন্স নিয়ে পানি উৎপাদন ও বিপণন করে। এর মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠান বোতলজাত আর বাকিগুলো জারের পানি বিক্রি করে। কিন্তু রাজধানীতে পানি উৎপাদন ও বাজারজাতকারী অবৈধ প্রতিষ্ঠানের সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও এ সংখ্যা সহস্রাধিক! যদিও সুখকর বিষয় হলো, এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবাণুযুক্ত ও মানহীন পানি উৎপাদনকারীদের অর্থদ-ের পাশাপাশি বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান। আমরা মনে করি, যারাই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পানি উৎপাদন ও সরবরাহ করবে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে এমনটি জরুরি।

সর্বোপরি বলতে চাই, যে কোনো মূল্যে সঠিকভাবে মান নিয়ন্ত্রণ না করে জার বা বোতলজাত পানি বিক্রি করলে তা রুখতে হবে। বিশেষজ্ঞরা যখন বলছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এসব পানি পান করায় মানবদেহে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ-জীবাণু বাসা বাঁধছে- তখন বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। মনে রাখতে হবে, পানির অন্য নাম জীবন। সঙ্গত কারণেই দূষিত পানির রমরমা বাণিজ্য বন্ধকরাসহ দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এমনটি কাম্য।