সংবাদ শিরোনামঃ
আলিফ মীম হাসপাতালের শেয়ার হোল্ডারদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি জেলা বিএমএ ও স্বাচিপের সভাপতি ডা: জাকির হোসেন উপজেলা নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ না নিতে এমপি আনোয়ার খাঁনকে চিঠি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট রহমত উল্যাহ বিপ্লবের কিছু কথা লক্ষ্মীপুরের কৃতিসন্তান আনোয়ারুল হক ছলেমা খাতুন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কামাল ফার্মারের  জন্মদিনে তিনি সকলের আশির্বাদ /দোয়া প্রার্থী লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ হামছাদি ইউপি নির্বাচনে মীর শাহআলম চেয়ারম্যান নির্বাচিত লক্ষ্মীপুরের উপশহর দালাল বাজার ইউপি নির্বাচনে এডভোকেট নজরুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত অনিয়মে চাকরিচ্যুত হবেন কর্মকর্তারা, ফেক্ট- উপজেলা পরিষদ নির্বাচন লক্ষ্মীপুরে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ পুরস্কার নিয়ে বির্তক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন লক্ষ্মীপুর -১ আসনের ড, আনোয়ার খান এম পির বড় ভাই আখতার খান রায়পুর উপজেলার উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে পুনরায় অধ্যক্ষ মামুনের চেয়ারম্যান হওয়া প্রয়োজন লক্ষ্মীপুর জেলায় ৮ম: বারের মতো শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হলে মোঃ এমদাদুল হক দালাল বাজার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে কাকে ভোট দিবেন? লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী কাজল খাঁনের গণজোয়ার লক্ষ্মীপুরের উপশহর দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পাঁচজন,কে হবেন চেয়ারম্যান ? বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ওমান সুর শাখার সহ-সাধারন সম্পাদক কামাল হোসেনের ঈদের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক

ত্রান কেউ পায় কেউ পায় না

 

আশিষ কুমার সেন

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। এ অবস্থায় আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মহাসংকটে পড়েছেন নিন্ম আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। দীর্ঘ এই লকডাউনে নিন্মমধ্যবিত্ত মানুষও নেমে যাচ্ছেন হতদরিদ্রের কাতারে। ঘরে খাবার নেই অথচ কাউকে বলতেও পারছেন না। বাইরে গিয়ে হাত পাততে পারছেন না। নেই আয়ের কোনো উৎস। শ্রমজীবী যাঁরা তাঁরা রিকশা চালিয়ে কিংবা দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করে আয় করতে পারছেন না। দেশের এই ক্রান্তিকালে সরকারের ত্রাণ তৎপরতার পাশাপাশি রাজধানীসহ দেশের দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি। তবে সমন্বয়হীনতা এবং তালিকায় সমস্যার কারণে এই ত্রাণ একবার যাঁরা পাচ্ছেন, বারবার তাঁরাই পাচ্ছেন। আর যাঁরা পাচ্ছেন না তাঁরা একেবারেই পাচ্ছেন না। অন্যদিকে ত্রাণ যাঁরা দিচ্ছেন, বিতরণের স্থান হিসেবে তাঁরা যোগাযোগ সুবিধাকে বেছে নিচ্ছেন। ফলে ত্রাণ নিয়ে বিশৃঙ্খল এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে দেশজুড়ে। বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ চুরির ঘটনাও ঘটছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় এ পরিস্থিতি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমকে আরো জটিল করে তুলেছে। দলীয় বিবেচনা এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তো আছেই।

সমন্বয়হীনতার কারণে রাজধানীতে কোনো কোনো এলাকার মানুষ একাধিকবার ত্রাণ পেলেও অনেক এলাকায় কেউই পাচ্ছেন না। ত্রাণ সহায়তা পেয়ে কেউ কেউ একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও অনেকের আতঙ্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খাদ্যসংকট। বঞ্চিতরা স্থানীয় কাউন্সিলর বা জনপ্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাশ হচ্ছেন। ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ড. আসিফ সালেহ গনমাধ্যকে বলেন, তালিকা নিয়ে সমস্যা রয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে হতদরিদ্রের যে তালিকা পাওয়া গেছে তা আগের করা। দুই মাস আগেও যাঁরা এই তালিকায় আসার যোগ্য ছিলেন না তাঁরা এখন হতদরিদ্র। কিন্তু তালিকায় নাম না থাকায় ত্রাণ সহায়তা পাচ্ছেন না তাঁরা। নতুন করে তালিকা তৈরি না হলে তাঁরা পাবেনও না। এ সমস্যা সমাধানে ঢাকা উত্তর সিটির সাতটি ওয়ার্ডে নতুন তালিকা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী এ বিষয়ে সহযোগিতা করছেন। সাতটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের প্রধান করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। ওই কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন এনজিও প্রতিনিধিরা। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও এ কমিটিতে আছেন।’

সিপিডির গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, স্বল্প আয় বা নিম্নবিত্ত যাঁদের সাহায্য প্রয়োজন, তাঁদের একটি নতুন তালিকা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীও এ তালিকা করার কথা বলেছিলেন।

তালিকা তৈরির দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। ত্রাণপ্রত্যাশী মানুষের সঠিক তালিকা করা না গেলে সমন্বয়ে বেগ পেতে হবে। সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ বণ্টন করতে অঞ্চলভিত্তিক বা এলাকাভিত্তিক হালনাগাদ তালিকা করতে হবে। আর এই তালিকা ধরে ত্রাণ বিতরণ করতে হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র আলহাজ জামাল মোস্তফা কালের কণ্ঠকে বলেন, সিটি করপোরেশনভুক্ত প্রতিটি ওয়ার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষকে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। সরকার থেকে বরাদ্দ পাওয়ার পর যাঁদের সাহায্য প্রয়োজন এমন তালিকা করে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। আবার এনজিও বা ব্যক্তি উদ্যোগেও ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে কেউ হয়তো দুইবার পাচ্ছে। তবে কেউ যেন ত্রাণ থেকে বাদ না পড়ে সে বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ত্রাণ বিতরণে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিম্নবিত্ত মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ত্রাণের চাহিদা বেশি। সে অনুপাতে সরবরাহ কম। এ কারণে সবাই ত্রাণ পাচ্ছেন না। ব্যক্তি উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হলেও বড় অংশই ত্রাণের আওতায় পড়ছে না। ত্রাণ বিতরণে সমন্বয় করা গেলে কোনো এলাকার মানুষ বাদ পড়বে না।

ব্যক্তি উদ্যোগে রাজধানীর পল্টন, কমলাপুর, যাত্রাবাড়ী, শাহবাগ, পুরান ঢাকা, বাড্ডা, ধানম-ি ও গুলশান এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সম্পদশালীরা স্বল্প পরিসরে দরিদ্র মানুষের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মাধ্যমেও সরকারি ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। দরিদ্র মানুষকে সহায়তা করতে ওয়ার্ডভিত্তিক ত্রাণ বরাদ্দ দিচ্ছে তারা। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ৫০০ জনের তালিকা করে সে অনুসারে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। এসব ত্রাণের প্যাকেটে রয়েছে ১০ কেজি চাল, দুই লিটার তেল, দুই কেজি ডাল, তিন কেজি আলু, এক কেজি লবণ ও দুটি ভিম সাবান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যেসব এলাকায় ছিন্নমূল মানুষ বেশি সেসব এলাকায় সব পর্যায় থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। এসব এলাকায় একাধিকবার ত্রাণ পেলেও অনেক এলাকার মানুষ একবারও পাচ্ছেন না। আবার রাজধানীতে ব্যক্তি উদ্যোগে ছোট পরিসরে ত্রাণ বিতরণ চললেও অনেকে বাইরে এসে ত্রাণের জন্য হাত পাততে লজ্জা পান। ঘরে খাবার নেই অথচ লোকলজ্জায় রাস্তায়ও নামতে পারছেন না। গত সোমবার ফার্মগেট মোড়ে রাস্তার পাশে ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছিলেন চারজন নারী। তাঁদের একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব আম্বিয়া জানান, রেললাইনের ধারে তাঁর বাস। করোনার কারণে আয়ের সব পথ বন্ধ। একমুঠো ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছেন। সকাল থেকে অপেক্ষা করেও ভাগ্যে মেলেনি ত্রাণ। সকাল থেকে পেটে সামান্য দানাপানিও পড়েনি।

একই দিন মহাখালী টিবি গেটের সামনে আটজন নারী ও দুজন পুরুষ ত্রাণের অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন নারী জানান, স্বামী রিকশা চালায়। করোনা শুরুর সময় ১৫ কেজি চাল কিনেছিলেন। শেষ হয়ে গেছে। দুই দিন আগে ত্রাণ হিসেবে দুই কেজি চাল, আধাকেজি ডাল ও কিছু আলু পেয়েছিলেন। তাও প্রায় শেষ। একটু ত্রাণ পাওয়ার আশায় সকাল থেকে রাস্তায়। আগের দিন এখানে এক ব্যক্তি ত্রাণ দিয়েছিলেন। তবে এদিন আর কেউ আসে নাই। কড়াইল বস্তির এক বাসিন্দা জানান, কাউন্সিলররা লোক পাঠিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার নম্বর নিয়েছেন। কিন্তু ত্রাণ দেননি। দেবেন কি না তাও জানেন না। কেউ সাহায্য না করলে কোথায় যাবেন তাঁরা?

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাগ শহীদনগরের দুই নম্বর গলির বাসিন্দা মান্নান মিয়ার পরিবারের সদস্যসংখ্যা পাঁচজন। একটি হোটেলে বাবুর্চির কাজ করে তিনি সংসার চালাতেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে হোটেল বন্ধ। ফলে ত্রাণের জন্য হাত পাতা ছাড়া বিকল্প নেই। সোমবার দুপুরে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, এই এলাকায় অনেকে ত্রাণ দিতে আইছে, দিছেও। কাউন্সিলর অনেক মাইনশেরে ত্রাণ দিছে। অনেকে গাড়িতে কইরা আইসা আতকা (হঠাৎ) দিয়া চইলা যায়, খোঁজ পাই না। আমি ও আমার পরিবার এহনো সাহায্য পাই নাই। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোকাদ্দেস হোসেন জাহিদ জানান, সিটি ব্যাংক এক হাজার প্যাকেট ত্রাণ তাঁর মাধ্যমে বিতরণ করেছে। এ ছাড়া ব্র্যাকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অনেকে ত্রাণ দিয়েছেন। তবে এই বিতরণ সমন্বয় করা হয়নি বলে অনেকে কয়েকবার ত্রাণ পেলেও অনেকে একবারও পায়নি। তবে তিনি অবস্থা বিবেচনায় ব্যক্তিগতভাবে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার প্যাকেট ত্রাণ বিতরণ করেছেন।

গত সোমবার রাজধানীর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের খিলক্ষেত, কুড়িল, কুড়াতলী, নিকুঞ্জ-১ ও ২, জোয়ারসাহারা, জগন্নাথপুর এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হতদরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণে চলছে চরম সমন্বয়হীনতা। বিশেষ করে বেসরকারি সংস্থা, সংগঠন, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণে যোগাযোগ সুবিধাকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এতে ঘুরে ফিরে একই এলাকার লোকজন ত্রাণ পাচ্ছেন। বঞ্চিত হচ্ছে অনেক প্রকৃত দুস্থ পরিবার। সমন্বয় করে ত্রাণ বিতরণ করা গেলে অনেক দুস্থ ও অসহায় পরিবার কিছু হলেও ত্রাণ সহায়তা পেত। এ ওয়ার্ডে অনেক দুস্থ পরিবার রয়েছে যারা একবারও সরকারি বা বেসরকারি ত্রাণ পায়নি। তবে সড়কের পাশে অনেকে চার-পাঁচবার পর্যন্ত ত্রাণ পেয়েছে। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ডা. জিন্নাত আলী স্বজনপ্রীতি ও দলীয় বৈষম্যের কথা স্বীকার করে বলেন, দলের ছেলেরাই ত্রাণ বিতরণ করছে, তাই এটা হতে পারে। তার পরও আমরা চেষ্টা করছি যাঁরা না খেয়ে আছেন তাঁদের কাছে ত্রাণ পৌঁছাতে। ত্রাণ সহায়তার এই পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন গনমাধ্যমকে বলেন, রাজধানীতে দুস্থ মানুষ অনেক বেশি। আমরা যাদের ত্রাণ দিচ্ছি এ সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। চলমান প্রকল্পটি শেষ হলে যারা পাচ্ছে না তাদের বিষয়টি দেখা হবে। পরবর্তী সময়ে আরেকটি প্রকল্প নেওয়া হবে। তবে এ কথা বলা যায়, গ্রামের মানুষের তুলনায় ঢাকায় মোটামুটি কম-বেশি সবাই ত্রাণ পাচ্ছে।