সংবাদ শিরোনামঃ
লক্ষ্মীপুর জেলায় ৮ম: বারের মতো শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হলে মোঃ এমদাদুল হক দালাল বাজার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে কাকে ভোট দিবেন? লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী কাজল খাঁনের গণজোয়ার লক্ষ্মীপুরের উপশহর দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পাঁচজন,কে হবেন চেয়ারম্যান ? বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ওমান সুর শাখার সহ-সাধারন সম্পাদক কামাল হোসেনের ঈদের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক এমপি ও মন্ত্রী হতে নয় বরং মানুষের পাশে দাঁড়াতে আ.লীগ করি, সুজিত রায় নন্দী বাড়ছে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য, নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ চাই বাড়ছে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য, নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ চাই লক্ষ্মীপুরে বিনা তদবিরে পুলিশে চাকরি পেল ৪৪ নারী-পুরুষ দুস্থ মানবতার সেবায় এগিয়ে আসা “সমিতি ওমান ” কর্তৃক চট্টগ্রামে ইফতার সামগ্রী বিতরণ দলিল যার, জমি তার- নিশ্চিতে আইন পাস লক্ষ্মীপুরে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে পবিত্র কুমার  লক্ষ্মীপুর সংরক্ষিত আসনের মহিলা সাংসদ আশ্রাফুন নেসা পারুল রায়পুরে খেজুর রস চুরির প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগ লক্ষ্মীপুরে আলোচিত রীয়া ধর্ষণের বিষয়ে আদালতে মামলা
তৃণমূলের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে কপাল পুড়ছে অর্ধশতাধিক এমপি-মন্ত্রীর!

তৃণমূলের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে কপাল পুড়ছে অর্ধশতাধিক এমপি-মন্ত্রীর!

ভিবি নিউজ ডেস্কঃ

তৃণমূলের ত্যাগী-পরিশ্রমী ও পরীক্ষিত-পদবঞ্চিত দুর্দিনে মাঠের আন্দোলন-সংগ্রামের সক্রিয় থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত কপাল পুড়তে পারে অর্ধশতাধিক এমপি-মন্ত্রীর। ইতোমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ের এসব নেতাবর্মীরা দলীয়প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দফতরে এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, দলের পক্ষ থেকে পৌরসভাসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নৌকার মনোনয়ন পাওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এমপি-মন্ত্রীরা। একইসাথে তারা নিজ বলয় তৈরি করার মধ্যদিয়ে বিদ্রোহীদের পক্ষে কাজ করছেন এবং নৌকার বিরোধিতা, বিদ্রোহীদের ইন্ধন ও ক্ষমতাবলে দলের অভ্যন্তরে কোন্দল সৃষ্টি করছেন। তৃণমূলের ওই সকল অভিযোগপত্র এখন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেবিলে। ওই সকল অভিযোগ যাচাই-বাছায়ের পর অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তিনি। আর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ফেঁসে যেতে পারেন আওয়ামী লীগের প্রায় অর্ধশতাধিক এমপি-মন্ত্রী। দলের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, আওয়ামী লীগে অর্ধেক এমপি-মন্ত্রী সম্প্রতি সময়ে দলের পক্ষ থেকে দেয়া নৌকা প্রার্থীদের বিরোধিতা করছেন। এমন অভিযোগ দুটি সংস্থার জরিপে উঠে এসেছে। ওইসব এমপি-মন্ত্রীদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার অবস্থাও নাজুক। কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর অনেক এমপি ও মন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মী ও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তাদের বিতর্কিত কর্মকা-ে নিজ নিজ সংসদীয় আসনে জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। এরইমধ্যে তৃণমূলের ত্যাগী-পরিশ্রমী ও পরীক্ষিত-পদবঞ্চিত দুর্দিনে মাঠের আন্দোলন-সংগ্রামের সক্রিয় থাকা অনেক নেতা রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন। বির্তকিত এমপি-মন্ত্রী নিজ নিজ এলাকায় গণবিরোধী কর্মকা-ই করছেন এবং টে-ার, কমিশন, চাঁদা, নিয়োগ বাণিজ্য মিলিয়ে ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করেছেন। বাইরে প্রতাপশালী হলেও ভেতরে জনপ্রিয়তা হারিয়ে সমালোচনার তীরে ক্ষত-বিক্ষত, কেউ কেউ নির্বাচনী অভিজ্ঞতা না থাকলেও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে এমপি হয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন নিজের ভিত্তি মজবুত না করে বিতর্কে জড়িয়েছেন।

দলীয় সূত্র মতে, টানা একযুগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকলে ও জেলা-উপজেলায় বৃদ্ধি পাচ্ছে দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। প্রায় প্রতিদিন নিজ দলের নেতাকর্মীদের মাঝে ঘটছে সংঘর্ষ, হামলা, মামলা, খুনোখুনি। বৃদ্ধি পাচ্ছে ভাই লীগ, এমপি লীগসহ বলয় ভিত্তিক রাজনীতি। নিজ বলয়ের নেতাদের পছন্দ পদে বসাতে মরিয়া স্থানীয় এমপি এবং প্রভাবশালী নেতারা। তাদের বলয়ের প্রার্থী নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিত হলেই ভোটের মাঠে বিদ্রোহী হতে ইন্ধন দিচ্ছেন তারা। একই সাথে দলের দায়িত্বশীল পদপদবিতে স্থান করে দিচ্ছেন বিএনপি-জামায়াত থেকে আশা হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিতদের। ফলে পদবঞ্চিত হচ্ছেন দলের ত্যাগী, পরিশ্রমী, পরীক্ষিত, পদবঞ্চিত এবং দুর্দিনে মাঠের আন্দোলন সংগ্রামের সক্রিয় নেতারা। স্থানীয় এমপি ও প্রভাবশালী নেতা-এমপিদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ তৃণমূল আওয়ামী লীগ। তারা দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবর অভিযোগ করেছেন। এদিকে তৃণমূলের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরে এই সকল কোন্দল নিরসন করতে চান তিনি। এ জন্য ওই সকল কর্মকা-ের সাথে যুক্ত থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে গত বুধবার গণভবনে অনুষ্ঠিত হয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় কঠোর হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেছেন তিনি। সম্প্রতি (চলমান) স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে এমপি-মন্ত্রীরা নৌকা বিরোধিতা করায় অনুষ্ঠিত ওই বোর্ডসভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলটির সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের দলে অনেক ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মী রয়েছেন। তাদের অনেকেই যোগ্য। কিন্তু একজনকে বেছে নিতে হয়। প্রথমে কিছু মান-অভিমান থাকলেও কর্মীরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করেন। কিন্তু সমস্যা কিছু এমপি, মন্ত্রী ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে। তারা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর জন্য নৌকার বিরোধিতা করেন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের ইন্ধন দেন। আমার সাফ কথা, সবার আমলনামা আমার হাতে। যারা পৌরসভায় নৌকার বিরোধিতা করবেন, ওই সকল বিরোধিতাকারীরা আগামীতে সংসদ নির্বাচনে নৌকা পাওয়ার যোগ্যতা হারাবেন। অভিযুক্তদের নৌকা দেব না। বৈঠকে এমপি-মন্ত্রী ও নেতাদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন অওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সারাদেশ থেকে আসা বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের অভিযোগের ফাইল দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের হস্তান্তর করে বলেন, তৃণমূলে কে কার বিরুদ্ধে কাজ করছেন, কোথায় কোথায় দলের মধ্যে কোন্দল চলছে, সেগুলোর তালিকা তৈরি করা আছে। এগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত এবং যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে কথা হয় আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ এর সাথে। তিনি বলেন, দলীয়প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি তৃণমূলে আমাদের উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভায় ও ওয়ার্ড কমিটির দায়িত্বশীল নেতারা, কে কার বিরুদ্ধে কাজ করছেন, কোথায় কোথায় দলের মধ্যে কোন্দল চলছে, সেগুলোর তালিকা তিনি তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

জানা গেছে, দলীয়প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এরইমধ্যে তৃণমূল থেকে বেশ কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগের তালিকায় নাম থাকা অধিকাংশ নেতাই বর্তমানে এমপি, এমপিপন্থি ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতাদের নাম রয়েছে। অভিযুক্ত অধিকাংশের নেতাদের বিরুদ্ধে দলের কর্মী নির্যাতন, যোগ্য ও ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন, পরিবারের সদস্যদের আধিক্য, নৌকার বিরোধিতা, বিদ্রোহীদের পৃষ্ঠপেষক, ক্ষমতা ও পেশিশক্তির অপব্যবহার, মনোনয়ন বাণিজ্যসহ নানামুখী বিতর্কিত কর্মকা-ের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তৃণমূল থেকে উঠে আশা এই সকল অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকারি দলটি। আওয়ামী লীগ বলছে, মেয়াদোত্তীর্ণ সম্মেলনের মধ্যদিয়ে তৃণমূলের বিতর্কিত নেতাকর্মীদের দল থেকে ছেঁটে ফেলা হবে। এই তালিকায় যাদের নাম রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আগামীতে জাতীয় কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে না।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে যারা দলের সিদ্ধান্ত মানবে না এবং দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। জয় হোক বা পরাজয় হোক তারা পরবর্তী নির্বাচনে আর মনোনয়ন পাবে না, এটিই আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত।

(সংগৃহীত)