সংবাদ শিরোনামঃ
লক্ষ্মীপুর জেলায় ৮ম: বারের মতো শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হলে মোঃ এমদাদুল হক দালাল বাজার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে কাকে ভোট দিবেন? লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী কাজল খাঁনের গণজোয়ার লক্ষ্মীপুরের উপশহর দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পাঁচজন,কে হবেন চেয়ারম্যান ? বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ওমান সুর শাখার সহ-সাধারন সম্পাদক কামাল হোসেনের ঈদের শুভেচ্ছা, ঈদ মোবারক এমপি ও মন্ত্রী হতে নয় বরং মানুষের পাশে দাঁড়াতে আ.লীগ করি, সুজিত রায় নন্দী বাড়ছে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য, নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ চাই বাড়ছে ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য, নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ চাই লক্ষ্মীপুরে বিনা তদবিরে পুলিশে চাকরি পেল ৪৪ নারী-পুরুষ দুস্থ মানবতার সেবায় এগিয়ে আসা “সমিতি ওমান ” কর্তৃক চট্টগ্রামে ইফতার সামগ্রী বিতরণ দলিল যার, জমি তার- নিশ্চিতে আইন পাস লক্ষ্মীপুরে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে পবিত্র কুমার  লক্ষ্মীপুর সংরক্ষিত আসনের মহিলা সাংসদ আশ্রাফুন নেসা পারুল রায়পুরে খেজুর রস চুরির প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগ লক্ষ্মীপুরে আলোচিত রীয়া ধর্ষণের বিষয়ে আদালতে মামলা
এবার কঠোর লকডাউনে দেশ ১৪-২০ এপ্রিল জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ থাকবে

এবার কঠোর লকডাউনে দেশ ১৪-২০ এপ্রিল জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছু বন্ধ থাকবে

↔স্টাফ রিপোর্টার
দেশে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর লকডাউন আরোপের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ সংক্রান্ত ইঙ্গিত দিলেও বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। তবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, ১৪ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এক সপ্তাহের জন্য প্রযোজ্য হবে এই লকডাউন। এই সময়ে জরুরি সেবা ছাড়া আর সবকিছু বন্ধ থাকব। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সারাবাংলার সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বর্তমান চলমান বিধিনিষেধে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলেই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে সরকারকে। এরআগে গতকাল শুক্রবার সকালে ১৪ এপ্রিল থেকে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ দেয়া হবে এক ব্রিফিংয়ে এমন কথা বলেছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত কঠোরভাবে লকডাউন হবে। শুধু জরুরি সেবা ছাড়া সব বন্ধ। সবাই যেন ঘরে থাকে, সবাই যেন লকডাউন পালন করতে সহায়তা করে, সেটি দেখা হবে। তিনি বলেন, আমরা প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছি ২৯ মার্চ থেকে। ওই দিন ১৮ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। আমরা বেশকিছু কড়াকড়ি আরোপ করেছিলাম। এরপর ৪ এপ্রিল আরো কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আমরা দিয়েছি। আমাদের একটি লক্ষ্য ছিল জনমত তৈরি করা, জনসচেতনতা তৈরি করা। আমরা সেটি করেছি। মানুষ মোটামুটি প্রস্তুত হতে পেরেছে। এখন খুব দ্রুত আমাদের কঠোর লকডাউনে যেতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের হাতে আরো কয়েকদিন সময় আছে। এই কয়েকদিনের মধ্যে বাকি প্রস্তুতি নিয়ে নেওয়া হবে। এরপর ১৪ এপ্রিল থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত কঠোর লকডাউন চলবে, যে সময়ে সবাই ঘরে থাকবে। কেবল জরুরি সেবা চলবে। কাউকে খুব জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। পোশাক খাতসহ অন্যান্য শিল্প কারখানা এই লকডাউনে চালু থাকবে কি না জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের চিন্তাভাবনা হলো কমপ্লিট লকডাউন। সবাইকে লকডাউনে থাকতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। গত বছর সাধারণ ছুটি ঘোষণার সময় জেলা প্রশাসনকে সহায়তা করতে সেনাবাহিনী টহল দিয়েছে সারাদেশে। এবারেও সেনাবাহিনী টহল দেবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যেটি করলে ভালো হবে, সেটি বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমরা পরবর্তী সময়ে বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। তিনি বলেন, মানুষ বুঝতে পেরেছে-করোনাভাইরাসের এই সংক্রমণ কমাতে হলে লকডাউন প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট সবাইও এই পরামর্শই দিয়েছেন। সবার চিন্তাভাবনা-পরামর্শ বিবেচনায় নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় পরামর্শক কমিটির বৈঠক থেকে দুই সপ্তাহের জন্য পূর্ণ লকডাউনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তবে সরকার আপাতত এক সপ্তাহের জন্যই লকডাউন চালু রাখতে চায় জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ বলেন, আপাতত সাত দিনের জন্যই লকডাউন থাকবে। তারপর প্রয়োজনে আবার (লকডাউন বাড়ানোর) সিদ্ধান্ত আসবে। আর এই সাতটি দিনে যেন সবাই ঘরে থাকেন, সেটি পুরোপুরি নিশ্চিত করতে হবে। সবাইকে সুবিবেচনার পরিচয় দিতে হবে। লকডাউন সফল করতে সব মানুষকে সহায়তা করতে হবে। এর আগে, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের একবছর পেরিয়ে এসে গত মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ফের বাড়তে থাকে সংক্রমণ ও করোনায় মৃত্যু। এ পরিস্থিতিতে গত ২৯ মার্চ সরকার ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করে, যাতে সবাইকে সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ নিশ্চিত করতে বলা হয়। পরে গত ৪ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে ৫ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য সব ধরনের জনসমাগম ও যানচলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। মোট সাত দফা নির্দেশনা দেয়া হয় সবার জন্য। তবে এই নির্দেশনায় অফিস-আদালত বন্ধ রাখতে বলা হয়নি, নিজস্ব পরিবহণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সীমিত লোকবল নিয়ে অফিস চালাতে বলা হয়। এই বিধিনিষেধ কার্যকরের একদিন পর ৬ এপ্রিল সরকার জানায়, ৭ এপ্রিল থেকে ঢাকাসহ দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনে সকাল-সন্ধ্যা গণপরিবহণ চলবে। এ ক্ষেত্রে ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী পরিবহণ করা যাবে, মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।

এদিকে, ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, গতকাল শুক্রবার থেকে দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে দোকানপাট ও শপিং মল। ১১ সিটিতে গণপরিবহণ চালু ও শুক্রবার থেকে দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্তের পর বিধিনিষেধ করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই। কেননা, এই দুই সিদ্ধান্তের আগে সরকারের পক্ষ থেকে বিধিনিষেধ জারির পরই সেই বিধিনিষেধ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসছিলেন স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা। তারা। সরকারের জারি করা বিধিনিষেধকে ‘স্ববিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।