ঢাকাWednesday , 13 May 2026
  • আজকের সর্বশেষ সবখবর

    রামগঞ্জের পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানীর অভিযোগ

    admin
    May 13, 2026 4:33 am । ১২ জন
    Link Copied!

    রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধিঃ

    তপন মজুমদার।
    লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে গ্রাহক হয়রানীর নানা অভিযোগ উঠেছে।
    বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করে মাসের পর মাস অফিসে আসা-যাওয়া করেও সংযোগ পাচ্ছে না। কিন্তু অবৈধ ইটভাটা,বহুতল ভবনের মালিকেরা আবেদন করার কয়েকদিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং লোড বৃদ্ধি পাচ্ছে।
    আবার কেউ কেউ গোপন চুক্তিতে পাচ্ছেন নতুন সংযোগ।

    সাধারন গ্রাহককে বিদ্যুতের তাঁর সংকট,ট্রান্সমিটার বরাদ্ধ নেই,নতুন মিটার আসছে না,আবেদনে অনলাইন ত্রুটি,অনলাইনে জমিনের খতিয়ান নেই,বাবার নামে খতিয়ান থাকলেও ছেলে নামে নেই এমন নানা সমস্যা দেখিয়ে তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছে না অফিস। এমন শত শত অভিযোগ গ্রাহকদের।
    আশারকোটা গ্রামের নুরু মিয়ার পুত্র সাদ্দাম হোসেন ৪ মে-২৫ অনলাইনে নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করলে জমিনের খতিয়ানে পিতার নাম থাকায় সংযোগ এখনো পাচ্ছে না। রামগঞ্জ পৌর কর্মচারী পিন্টু, আরিছপুর গ্রামের মাকসুদুর রহমান, পৌর আগুনখীল গ্রামের মোস্তাক আহম্মেদ,রতনপুর গ্রামের মাহাবুবুল রহমান,পশ্চিম অভিরামপুর শাহ জামে মসজিদ কমিটি সহ অনেকেই মিটারের জন্য আবেদন করে মাসের পর মাস অতিবাহিত হলেও সংযোগ পাচ্ছেন না বলে জানান। শুধু তাই নয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিস থেকে নির্মিত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পে ১২টি প্রকল্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বার বার ধরনা দিয়েও সংযোগ দিতে পারছেন না।
    পৌরসভার এ্যাপোলো হাসপাতালে ৩ পেজ এবং রতনপুর গ্রামের বেলায়েত মাস্টার সাড়ে ৭ কিলো, সোনাপুর কর্ণফুলী সিটি কমপ্লেস্কে ৮০ কিলো সংযোগের জন্য ২ বছর আগে টাকা জমা দিলেও ট্রান্সমিটার সংকট দেখিয়ে সংযোগ দিচ্ছে না।
    কিন্তু ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা গ্রামে মেসার্স মদিনা ইটভাটায় প্রশাসনে কর্তৃক বিছিন্ন করে দেওয়ার পরও মোটা অংকের টাকা বিনিয়ম অবৈধ ইটভাটায় সংযোগ দেওয়া হয়।
    এভাবে গোপন চুক্তির মাধ্যমে আঙ্গাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ব্যবসায়ি আবুল কালাম আজাদ,রামগঞ্জ সাব-রেস্ট্রি: অফিস সংলগ্ন স্থানে মাওঃ মিজানুর রহমান ও সোনাপুর চৌরাস্তা ফরাদের বাড়ির পাশে সাড়ে ৩৭ কিলো ৩টি ট্রান্সমিটার লাগিনো হয়। লামচর-করপাড়া এলাকার ইলেক্ট্রিসিয়ান ফয়েজ বলেন,বিধি মোতাবেক গ্রাহকেরা কোন সেবাই পাচ্ছে না। টাকা দিলে কোন বিধির প্রয়োজন হয় না। নাম প্রকাশ না করে রামগঞ্জ জোনাল অফিসের তালিকাভুক্ত কয়েকজন ইলেক্ট্রসিয়ান বলেন,রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ওয়ারিং ইস্পেটর শিমুল বড়ুয়াকে প্রতি মিটারে সর্বনিম্ম ৭শত টাকা করে না দিলে মিটার অনুমোদন হয় না। বড় কাজগুলো ডিজিএমের সাথে কন্ট্রাক করতে হয়। তা নাহলে নানা অজুহাতে ঝুলিয়ে রাখে হয়।
    ওয়ারিং আমাদের সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছে আমি মসজিদ,মাদ্রাসা,মন্দির,র্গীজা বুঝি না| মিটার প্রতি টাকা না দিলে অনুমোধন করা হবে না। ইলেক্ট্রিশিয়ানরা আরো বলেন,১২/১১/২০২৫ এবং ২৩/১২/২০২৫ইং বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব মোঃ মামুন ভুইয়া স্বাক্ষরিত পরিপত্রকেও ডিজিএম গুরুত্ব দিচ্ছে না। পশ্চিম আঙ্গারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, আমার বিদ্যালয়ের পাশের মসজিদের ট্রান্সমিটার লাগানোর জন্য আবেদন করে টাকা জমা দিলে ডিজিএম অযুক্তিক শর্ত বেধে দেয়। যা মসজিদ কর্তৃপক্ষের পক্ষে পুরন করা সম্ভব নয়। কর্ণফুলী সিটি কমপ্লেক্সের সভাপতি বিল্লাল হোসেন পাটোয়ারী বলেন,কর্ণফুলী সিটি কমপ্লেক্সের পক্ষে মোঃ বেলায়েত হোসেন বাচ্চুর আবেদনের প্রেক্ষিতে অফিসের সংশ্লিষ্টরা যাচাই-বাচাই করে টাকা জমার চিঠি ইস্যু করে। চিঠির আলোকে জামানতের ৯৮ হাজার টাকা জমা দেওয়ার ২ বছরেও ট্রাস্টমিটার দেওয়া হয়নি। অথচ র্মাকেটের পাশে নতুন ৫তলা ভবনে আবেদনের করার ২ মাসের মধ্যে ট্রান্সমিটার এবং সংযোগ পেয়েছে। রামগঞ্জ জোনাল অফিসের ওয়ারিং ইস্পেক্টর শিমুল বড়ুয়া বলেন,কেউ আমাকে টাকা দেয় না,গ্রাহক অনলাইনে আবেদন করলে সিরিয়াল অনুয়ায়ী মিটার পাচ্ছে। রামগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম শাহীন রেজা ফরাজী বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর ১২টি মিটারের মধ্যে ৬টি অনুমোদন হয়েছে,নতুন সরকার ক্ষমতা আসার পর এখান পর্যন্ত কোন বরাদ্ধ আসেনি। অনেক গ্রাহক শর্তপূরন না করার কারণে সংযোগ পাচ্ছে না। ইটভাটার মালিকরা নয় যে কোন ব্যক্তিরা প্রয়োজনে লোড বৃদ্ধির আবেদন করলে দেওয়ার বিধান রয়েছে।