অযত্ন অবহেলা রামগঞ্জ শিশু পার্কটি এখন মরুভূমিতে পরিণত
তপন মজুমদার, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার একমাত্র শিশু পার্কটি এখন অযত্ন অবহেলা ও মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। শিশু পার্কটির গেটের উন্নতি হলেও ভিতরে শুধুই ফাঁকা মাঠ।
রামগঞ্জ পৌর এলাকার বাইপাস সড়কের ডাকবাংলা সংলগ্ন এলাকায় শিশু- কিশোর ও স্থানীয় মানুষদের চিত্ত বিনোদনের জন্য নির্মিত একমাত্র শিশু পার্কটি এখন ময়লা আবর্জনা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও কোন ধরণের খেলনা ও রাইড বিহীন এই শিশু পার্কটি এখন মানুষের হাস্যরসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানাগেছে, লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ উক্ত শিশু পার্ক নির্মাণ অর্থায়নে উপজেলার একমাত্র বিনোদন শিশু পার্কটি হয়ে ওঠে উপজেলা বাসির প্রাণকেন্দ্র
। দূর-দূরান্ত থেকে সব বয়সী মানুষদের পদচারনায় মুখরিত ছিল এলাকাটি। স্থানীয় কিছু লোক শিশু পার্কের নতুন করে স্বপ্ন দেখেন । সরকারি ভাবে শিশু পার্ক প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম তৈরি করার জন্য সরকার যেখানে আন্তরিকভাবে অর্থায়ন করছেন ঠিক তখনই রামগঞ্জ উপজেলার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র শিশু পার্কটি পড়ে আছে অযত্ন অবহেলায়।
বিভিন্ন সময়ে মেলার আয়োজন করার কারণে
কয়েক কোটি টাকা ব্যয় নির্মিত রামগঞ্জ শিশু পার্কটি ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়েছে।
ইতিমধ্যে মাদক সেবীরা পার্কটি সকল প্রকার রাইড খেলনা ও বিভিন্ন মূল্যবান আসবাবপত্র খুলে নিয়ে বিক্রি করে দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন নজরদারি ছিল না। নেই রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোন ব্যবস্থা পার্কের ভিতরের চারপাশে ঝোপজঙ্গল আর ময়লা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
দিনের বেলা গরু ছাগলের চারণ ভূমি, যুবকদের খেলার মাঠ, গাড়ির গ্যারেজ ও রাতে মাদক সেবীদের আড্ডাখানা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে পার্কটি। বর্ষাকালে কাঁদা আর গ্রীষ্মকালে ধুলাবালিতে পার্কটির অবস্থা বেহাল।
এছাড়া স্থানীয় লোকজন পার্কটির দেয়াল ঘেষে নির্মাণ সামগ্রী ময়লা আবর্জনা স্তুপ করে তুলছে পার্কটির পরিবেশ। বিভিন্ন সময়ে উক্ত পার্ক নিয়ে লেখালেখি ও আবেদনের সাড়া দিয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিশু পার্কটির নাম পরিবর্তন করে শেখ রাসেল শিশু পার্ক নাম দিয়ে সংস্কার কাজ করার উদ্যোগ গ্রহণ করলেও তাও কোন কারণে থমকে গেছে।
জানা যায় ২০০৫ সালে ১৪ই অক্টোবর তৎকালীন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মরহুম জিয়াউল হক জিয়া পার্কটি প্রতিষ্ঠার পর পার্কের ভিতর নির্মাণ করা হয় পাকা বেঞ্চ, দোলনা, লেক লোহার সিড়িসহ শিশুদের খেলনা সামগ্রী। সেই সঙ্গে পার্কটিতে বিভিন্ন জাতের ফুল ও ফল কাঠ গাছ লাগানো হয়। বর্তমানে পার্কে লাগানো লাখ লাখ টাকার ফুল ও কাঠ গাছ গুলো অস্তিত্ব নেই। পুরো মাঠ এখন বিরাট ভূমিতে পরিণত হয়েছে। বাচ্চাদের জন্য তৈরি একটা খেলনার অস্তিত্ব নেই। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পার্কটির অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে। শিশু পার্কের রক্ষায় স্থানীয় বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহ সুশীল সমাজ বিভিন্ন পেশাজীবী লোকজন পার্কটি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ২০২০ সনে পার্কের দেয়ালে কারুকার্য নতুন তরুণ নির্মাণ করেন সকল শ্রেণীর পেশার মানুষ কিন্তু তাদের এ আনন্দ বেশি দিন থাকেনি। অজ্ঞাত কারণে ঠিকাদার কাজ শেষ না করেই লাফাতা হয়ে যান লোপাট করা হয় সরকারি অর্থ। সেইসাথে শিশু পার্কটি এখন স্থানীয়দের খেলার মাঠ ছাড়া আর কিছুই না। স্থানীয়দের দাবি লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের বর্তমানে প্রশাসক মহোদয় যদি শিশু পার্কের সংস্কার একটু আন্তরিক হয় তাহলে উপজেলাবাসি একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র রামগঞ্জ শিশু পার্কটি আবারো প্রাণ ফিরে পাবে।






