বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদ পেলেন আবু জাফর মোহাম্মদ ইসলাম হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার : অবশেষে ২০১০থেকে ২০২৬—দীর্ঘ ১৬ বছরের চুড়াই- উৎরাই শেষে সাফল্য; তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠলেন এক নবীন আইনজীবী: আবু জাফর মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন।
আবু জাফর মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন লক্ষীপুর জেলার সদর থানাধীন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড, বান্ঞ্চানগর সাকিনের হাজী কালা মিয়া সুফী বাড়ীর মরহুম আবদুর রহিম মিঝি ও নুরের নেছা মিজির সেজো ছেলে।
ব্যাক্তি জীবনে এডভোকেট আবু জাফর মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বিবাহিত ১ স্ত্রী ৩ সন্তানের জনক।
এই পেশায় আশার আগে কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা করতেন, বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সম্মানিত সদস্য এবং জাতীয় দৈনিক সংগ্রাম প্রতিদিন পত্রিকার লক্ষীপুর জেলা প্রতিনিধি হিসাবে কর্মরত আছেন।
তার এই যাত্রা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং এটি বাংলাদেশের হাজারো শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত—যেখানে ধৈর্য, অধ্যবসায় আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দেয়।
জানা যায় ২০১৬/১৭ সেশনে এলএল.বি. কোর্সে ভর্তি হন তিনি। দুই বছরের এই কোর্স ২০১৮ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। কাগজে-কলমে ২০১৮ সালে পাস করলেও, চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয় ২০২০ সালের মে মাসে।
এই দেরিই তার জীবনের প্রথম বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ এলএলবি পাস করার পরপরই আইনজীবী হওয়ার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যায় না। এর আগে ছয় মাসের শিক্ষানবিশকাল সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক
২০২০ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা থাকলেও তিনি তাতে অংশ নিতে পারেননি। কারণ —এই সময়ের মধ্যে ছয় মাস পূর্ণ হয়নি। ফলে অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়। প্রথমবার পরীক্ষার সুযোগ আসে ২০২২ সালে। কিন্তু সেই পরীক্ষায় প্রথমে প্রিলি, এম সি কিউ পরীক্ষায় পাশ করলে ও লিখিত পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হন।
ব্যর্থতার পর ব্যর্থতা, তবুও থামেননি!
২০২২ সালের লিখিত পরীক্ষার ব্যর্থতার পরও তিনি হাল ছাড়েননি। আবার প্রস্তুতি নিয়ে এরপর ২০২৩ সালে আবার পরীক্ষায় দেন। লিখিত পরীক্ষায় ফেল করেন। এই পর্যায়ে এসে অনেকেই স্বপ্ন ত্যাগ করে বসেন। তিনিও একসময় ভেবেছিলেন, আর এগোবেন না। নতুন করে শুরু
ঠিক তখনই তার মনে পড়ে ইতিহাসের এক অনন্য চরিত্র—রবার্ট দ্য ব্রুস, যিনি ছয়বার পরাজিত হয়ে সপ্তমবারে জয়লাভ করেছিলেন।
এই গল্প থেকেই তিনি নতুন করে অনুপ্রেরণা পান। আবার শুরু করেন পড়াশোনা, নতুন উদ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করেন। অবশেষে সেই মহেন্দ্রক্ষনের আগমন ঘটে। তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদ পেয়ে হয়ে গেলন আইনজীবী।
তার এই সাফল্যে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব লক্ষ্মীপুর শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয় লাল গোলাপের শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।






