লক্ষ্মীপুর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচী চলমান
কার্তিক চন্দ্র দাস ( লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি) নিয়োগবিধি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সারাদেশের ন্যায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় মাঠকর্মীরা ৪ ডিসেম্বর টানা ৩য় দিনের মত কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি চলছে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সামনে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ও পরিবার কল্যাণ সহকারীদের নিয়োগবিধি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। গত ২১ নভেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সারাদেশের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীরা এক শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১লা ডিসেম্বর ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিয়োগবিধি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশের মাঠ পর্যায়ে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীরা জানান বিগত ২৬ বছর থেকে এ বিভাগের মাঠকর্মীদের কোন নিয়োগ বিধি নেই। নিয়োগবিধে না থাকার কারণে যে পদে যোগদান করেন সে পথ থেকেই বিদায় নিতে বাধ্য হন এবং সরকারি বিভিন্ন পদোন্নতি থেকেও তারা যুগের পর যুগ বঞ্চিত হয়ে আসছেন। নিয়োগবিধি ছাড়াই চলছে এ বিভাগের নিয়োগ। মাঠকর্মীরা এর আগেও মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলেন। কর্মকর্তাদের সাথে বিভিন্ন সময় নিয়োগবিধি নিয়ে যোগাযোগ করলেও বিগত ২৬ বছরেও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়োগবিধি করে দিতে ব্যর্থ হন। পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক সমিতির সভাপতি রেদওয়ানুল করিম বলেন : পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের একমাত্র মাঠকর্মীরাই প্রত্যেকটা মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে সেবা প্রদান করে আসছেন। জন্মনিয়ন্ত্রণ ছাড়াও এ বিভাগ মা ও শিশুস্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য, উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কাউন্সিলিং, স্যাটেলাইট ক্লিনিক, স্বাস্থ্য বিভাগের ইপিআই সহ বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেন, গর্ভবতী মাকে কাউন্সিলিং, নরমাল ডেলিভারি, রেফার করা, বিভিন্ন সংক্রমণ ও অসংক্রমণ রোগের বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ে কাউন্সেলিং করে থাকি। এত কাজ করার পরও এ বিভাগের মাঠ কর্মীরা নিয়োগবিধি না থাকার কারণে অবহেলিত ও বঞ্চিত। আমরা সরকারের কাছে প্রার্থনা করি আমাদের নিয়োগবিধিতে যেহেতু সরকারের কোন আর্থিক বিষয়ের সংশ্লিষ্টতা নেই সেহেতু আমাদের এই নিয়োগবিধি দ্রুত বাস্তবায়ন করে দিবেন। নিয়োগবিধি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এ অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে এবং আরো কঠিন কর্মসূচিতে যেতে আমরা বাধ্য হবো।






