- লক্ষ্মীপুরে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির বিরুদ্ধে ওয়ার্ড সভাপতির প্রতারনার অভিযোগ
মিজানুর শামীমঃ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুর হোসেন চৌধুরী আরজুর বিরুদ্ধে প্রতারনাসহ নানানরকম অভিযোগ এনেছেন একই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবু তাহের। অন্যদিকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুর হোসেন আরজু চৌধুরীও ৩নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি তাহেরের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। দুজনের দ্বন্দ্ব নিয়ে রসূলগঞ্জ বাজারে যে-কোনো সময় ঘটতে পারে অপ্রীতিকর ঘটনা। দুই নেতার বিরোধের বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ওই এলাকার লোকজন।
চররুহিতা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবু তাহের গণমাধ্যমকে বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুর হোসেন চৌধুরী আরজু আমাকে কিছু দিন পূর্বে ফোন করে বলেন, এই ফোন নম্বরটা নেও, ৫টি -৫টি নাম দেও নয়টি ওয়ার্ড থেকে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিচয়ে ওই নম্বরটি দিয়েছিলো। দেয়ার পরে আমি ওই নম্বরে ফোন দিলে একলোক নিজেকে ‘ইউএনও’ পরিচয় দিয়ে আমাকে বলে আপনি ৫/৫ টি নাম দিয়ে কি করবেন, আরো একশো নাম দেন, নয়শো টাকা করে নব্বই হাজার টাকা যাবে কিন্তু এর বিনিময়ে নিরিহ মানুষ ৩০ কেজি চাউল, ৫কেজি তেল, তিন কেজি ডাল, তিন কেজি চিনি পাবে। এই কথা বলে ইউএনও পরিচয়ে কথা বলা নম্বর থেকে অন্য একটি নম্বর দিয়ে বলে এই নম্বরে টাকা পাঠান। তখন ইউনিয়ন সভাপতির কথা বিশ্বাস করে ২ সেপ্টেম্বর আমি ৪৭৮০০ টাকা সেই নম্বরে দুই ধাপে বিকাশ করেছি। টাকা পাঠানোর পরে আমার সন্দেহ হলে আমি থানায় গিয়ে দারোগার কাছে নম্বরটি ইউএনও’র কিনা যাচাই করে জানি আমি প্রতারিত হয়েছি। পরে আমি এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করি। ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি তাহের আরও বলেন, আরজু চৌধুরী থেকে আমি জমি কেনা বাবত ছয় লক্ষ টাকা পাই। ইদানিং আমার বাড়ী মাপার কথা বল ৪০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ী মাপামাপি না করে উল্টো আমাকে মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের সবার নেতা আবুল খায়ের ভূঁইয়া সাহেবকে জানাইলে তিনি আরজু চৌধুরীকে আমার টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলে দেয়ার পরেও আরজু চৌধুরী আমার টাকা ফেরত দিচ্ছেন না।
চররুহিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুর হোসেন চৌধুরী আরজু মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তাহেরের আনা প্রতারনা ও টাকা পাওনার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাহের গাঁজা ব্যবসায়ী, তাহের নিজেকে রসুলগঞ্জ বাজারের স্বঘোষিত মেয়র দাবি করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এমনকি সে কিছুদিন পূর্ব তার নিজের পিতাকেও মারধর করেছে।
এবিষয়ে রসুলগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা শাহীন চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে কোনো বক্তব্য দিবো না। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুর হোসেন চৌধুরী আরজু ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তাহেরের বিরোধের বিষয়টি আশাকরি দলীয় নেতৃবৃন্দ দেখবেন।
এবিষয়ে কথা বলার জন্য লক্ষ্মীপুর ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়ার মুঠোফোনে চেষ্টা করেও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।






