ঢাকাThursday , 3 July 2025
    আজকের সর্বশেষ সবখবর

    লক্ষ্মীপুরে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে জলাশয় উদ্ধার: জনমনে স্বস্তি

    admin
    July 3, 2025 1:17 pm । ৪৭৮ জন
    Link Copied!

    লক্ষ্মীপুরে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে জলাশয় উদ্ধার: জনমনে স্বস্তি
    ভি বি রায় চৌধুরী -লক্ষ্মীপুর জেলা দেশের উপকূলীয় অঞ্চল হিসাবে সমাদৃত। দেশে প্রকৃতি বিমুখে উপকূলীয় অঞ্চল হিসাবে ডেঞ্জার জোন হিসেবে লক্ষ্মীপুর জেলার নাম  সর্বপ্রথম উঠে আসে ।

    এ জেলায় খাল-বিল, নদী ও জলাশয়ের জন্য বিখ্যাত ছিল। এসব প্রাকৃতিক সম্পদ ছিল কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও জনজীবনের অমূল্য সহায়ক। কিন্তু গেল কয়েক বছরে এই জলাশয়গুলো  একের পর এক অবৈধ  দখলদারদের কবলে পড়ে। বিভিন্ন জলমহল নামে সরকারের চিহ্নিত স্থান বাঁধ দিয়ে পানি আটকিয়ে মাছ চাষ, খালপথে বাঁধ নির্মাণ, জলাশয় ভরাটসহ নানা অনিয়মে লক্ষ্মীপুরে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।

    বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি নামতে না পারায় ফসলি জমি , ঘরবাড়ি পানিতে ভাসে, রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযুক্ত  হয়ে পড়ে।এলাকার সর্বস্তরের জনগণ, স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, দিনমজুরসহ সাধারণ মানুষ পড়ে চরম বিপাকে। জমাটবদ্ধ পানি থাকায় মশার উপদ্রব বেড়ে গিয়ে বাড়ে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ।
    জানাযায় লক্ষ্মীপুর জেলাপ্রশাসক রাজীব কুমার সরকার    দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই  স্থানীয় সমস্যাগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। সরেজমিনে পরিদর্শন করে তিনি দেখেন, সমস্যার মূল হলো খাল ও জলাশয়ের দখল সহ বিভিন্ন হাট বাজারে সরকারি সম্পত্তিতে  অবৈধ দখল।

    তিনি বিষয়টি নিয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জামশেদ আলম  রানা সহ জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে, ভূমি অফিস, মৎস্য বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে শুরু করেন এক সুপরিকল্পিত দখলমুক্ত অভিযান। পুরো পাঁচটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্ছেদ অভিযান বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রদান করেন।  প্রাথমিক পর্যায়ে প্রভাবশালীদের চাপ, হুমকি ও আইনি জটিলতা সত্ত্বেও জেলাপ্রশাসক রাজীব কুমার সরকারের নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ  কঠোর হাতে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে অসংখ্য অবৈধ বাঁধ অপসারণ করে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হয়। বহু জলাশয়, বিল ও খাল পুনরুদ্ধার করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে জরিমানা  মামলাও করা হয়।

    ফলশ্রুতিতে  জলাবদ্ধতা কমেছে, কৃষিজমি চাষাবাদের উপযোগী হয়েছে, পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় বৃষ্টি হলেই এখন আর ঘরবাড়ি বা স্কুল তলিয়ে যায় না। মানুষ স্বাভাবিক ভাবে যাতায়াত করতে পারছে, শিক্ষার্থীরা  যেতে পারছে স্কুলে, কৃষক চাষাবাদে মন দিতে পারছেন, শ্রমজীবীরা নির্বিঘ্নে কাজে যেতে পারছেন।

    জেলা জুড়ে জেলাপ্রশাসক  রাজীব কুমার সরকারের সাহসী পদক্ষেপে চলছে প্রশংসার ঝড়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদপত্র ও স্থানীয় জনতার মুখে মুখে এখন একটাই নাম—রাজীব কুমার সরকার।

    অনেকেই বলছেন, একজন প্রশাসকের সদিচ্ছা, সাহস এবং জনকল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত থাকলে যে বড় সংকটও সমাধান সম্ভব—এটি তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

    লক্ষ্মীপুরের এই অভিযান এখন দেশের অন্যান্য জেলার প্রশাসনকেও অনুপ্রাণিত করছে। কারণ জলাশয় দখল, খাল ভরাট ও জলাবদ্ধতা বাংলাদেশের বহু জেলায় বিদ্যমান। তাই রাজীব কুমার সরকারের এ উদ্যোগ হতে পারে জাতীয় পর্যায়ের নীতিমালার অংশ।
    এই বিষয়ে জেলাপ্রশাসক রাজীব কুমার সরকার বলেন জলাশয়ে দেয়া অবৈধ  বাধ অপসারণ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান লক্ষ্মীপুরের সকল উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।