রায়পুরের ভূমি অফিসের দূর্নীতির মূল হোতা সার্ভেয়ার সাজেদুল কে দেখার কেউ নেই
রায়পুর ( লক্ষ্মীপুর) থেকে এহসানুল আসিফ (মাসুম) -লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। নামজারি (জমাখারিজ)নাম সংশোধন সহ ভূমি সংক্রান্ত যে কোনো সমস্যা সমাধানে ঘুষ ছাড়া মেলে না কোন সেবা। ঘুষ নেওয়ার মূল হোতা সার্ভেয়ার সাজেদুল ইসলাম। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানার নাম ভাঙিয়ে সিন্ডিকেট করে প্রতি নিয়ত ঘুষ নেয় সার্ভেয়ার সাজেদুল। ঘুষের টাকা হাতানোর জন্য তিনি দালাল সিন্ডিকেট গঠন করেছেন। দালালদের মাধ্যমে ঘুষের টাকা না দিলে মাসের পর মাস ফাইল পড়ে থাকে। আর দালালদের মাধ্যমে দায়িত্ব দিলে হর হামেশায় কাজ হয়ে যায়। জানাগেছে, কোনো জমির নামজারি করতে হলে প্রথমে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। এরপরে শুরু হয় ঘুষ বাণিজ্য। এরপর সার্ভেয়ার সাজেদুলের প্রতিবেদন প্রদানেও ঘুষ এর পর নাজিরের টেবিলে ডিসিআর ফি সহ ঘুষের টাকা জমা না হলে এসিল্যান্ডের টেবিলে ফাইল যায় না। এভাবে প্রতি নিয়ত একজন সেবা প্রত্যাশীকে ঘাটে ঘাটে ঘুষ দিয়ে নামজারি করাতে হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে চলে রমরমা ঘুষের লেনদেন।এ বিষয়ে গণমাধ্যম কে উওর চরবংশী হানিফ মিয়া বলেন আমি রায়পুর এসিল্যান্ড অফিসে জমাখারিজ করতে গেলে আমাকে ৩ দিন ঘুরানো হয়।পরে সার্ভেয়ার আমার থেকে টাকা চায় ৫০০ টাকা দিলে তিনি প্রতিবেদন প্রদান করেন। আরো একজন ভুক্তভোগী দক্ষিণ চর আবাবিল ইউনিয়ন এলাকার সফিউল্ল্যার পুএ আবদুল মন্নান বলেন।আমি রায়পুর জমাখারিজ করতে গেলে আমাকে এক সপ্তাহ ঘুরানো হয়,আমার কাছ থেকে ১০০০ টাকা নিয়ে প্রতিবেদন দেন সার্ভেয়ার সাজেদুল ইসলাম। উত্তর চরবংশী আরাফত বলেন তিনি জমা খারিজ করতে গেলে তাকে ঘুরানো হয় পরে ৫০০ টাকা দিলে সার্ভেয়ার স্বাক্ষর করেন । উওর চরবংশী ইউনিয়ন নুর মোহাম্মদের পুএ আবুল কালাম বলেন আমি রায়পুর এসিল্যান্ড অফিসে জমাখারিজ করতে গেলে সার্ভেয়ার আমাকে বলে আপনার কাগজে এই সমস্যা ওই সমস্যা। আমি আমার কাজটি করে দেয়ার জন্য অনুনয় বিনয় করলে আমার থেকে ৫০০ টাকা দিলে কাগজে স্বাক্ষর করেন।উত্তর চরবংশী সফিকুল মিয়া বলেন তার বোন বিলকিছ বেগম এর নামজারি করতে গেলে হয়রানি শিকার হন। সার্ভেয়ার সাজেদুল ইসলাম কে ৫০০ টাকা দিলে তিনি স্বাক্ষর করেন।উওর চরবংশী ইউনিয়নের পারভেজ হোসেন বলেন তার বাবার জমাখারিজ করতে গেলে তাকে অনেক দিন ঘুরানো হয় এর পর টাকা চায়৫০০ টাকা দিলে সার্ভেয়ার তার স্বাক্ষর করেন।বামনী ইউনিয়নের এক সেবা প্রত্যাশী বলেন নামজারি করতে গেলে সার্ভেয়ার সাজেদুল কে ৫০০ টাকা দিলে তিনি প্রতিবেদন দেন। উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের বাসিন্দার নুর মোহাম্মদের পুএ আবুল হাসেম বলেন আমি জমাখারিজ করতে গেলে আমাকে দুই বার হয়রানি করা হয়েছে। পরে আমি এসিল্যান্ড অফিসে অভিযোগ দেই তাতেও কোনো কাজ হয় নাই। পরে আমি কোনো উপায় না পেয়ে সার্ভেয়ার সাজেদুলকে ৫০০ টাকা তার হাতে দিলে তিনি বলেন ঠিকআছে আপনার স্বাক্ষর দিয়ে দিব এভাবে কয়েক জায়গায় টাকা দেয়ার পরে আমার নামজারি করে দিয়েছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ভুক্তভুগী বলেন সাবেক দাগে খাস আছে বলে জমির দাতা থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে ডিমারকেশন (সীমানা নির্ধারন) নকশা করে প্রতিবেদন দেন সার্ভেয়ার জমাখারিজ করা হয়। জমিটি কিনে আমি জমাখারিজ করতে গেলে আবার ডিমারকেশন করতে হবে আগের ডিমারকেশন দিয়ে হবে না। বলে সার্ভেয়ার সাজেদুল পরে আবেদন নামঞ্জুর হয়। এবং হয়রানিও খারাপ ব্যবহার করেন। পরে উপায় না পেয়ে দালাল এর মাধ্যমে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে খারিজ করতে দেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন নামজারি জমাখারিজ করতে গেলে সাবেক দাগে খাস থাকলে ও একই হাল দাগে যদি সরকারি খাস ১ নংখতিয়ান থাকে তদুপরিও ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার বেশি নিয়ে (জমাখারিজ) করে দেয়। আরএস খতিয়ান ও জমাখারিজ খতিয়ানে ব্যক্তির নামে আলাদা থাকা সত্ত্বেও,সাবেক দাগের খাস আছে বলে জমা খারিজ করতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এই সার্ভেয়ার সাজেদুল। জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২১আগষ্ট মো সাজেদুল ইসলাম রায়পুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি) অফিসে যোগদান করেন। নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক ভুক্তভুগী বলেন সার্ভেয়ার সাজেদুল যোগদানের পর থেকে তার রাজত্ব ও দৌরাত্ম্য জনগনের জীবন দুর্বিষহ পর্যায়ে পৌঁছেছে।ভুক্তভোগীরা একাধিকবার লিখিত, মৌখিক, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়েও অনলাইনে উপ-ভূমি সংস্কার কমিশনার, চট্টগ্রাম বিভাগে, একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ জানালেও কোন কাজ হয়নি। কয়েকটি পএিকায় নিউজ করার পরেও সার্ভেয়ার সাজেদুলের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্হা নেওয়া হয়নি। চাহিদামতো সেবাগ্রহীতারা ঘুষ দিলে তার কাছে অসম্ভব বলে কিছুই থাকে না। মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে ১ নং খাস খতিয়ানের সরকারি জমি প্রতিবেদন দেন জমিটি খারিজ হলে জানাজানি হলে ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ভূমি ইমরান খানকে জানানো হলে এতে খারিজ টি বাতিল করে দেন, এতে বদলি হয় অফিসের নাজির জয় চক্রবর্তী। গত কয়েক মাস আগে আরেকটি ১ নং খাস খতিয়ানের সরকারী জমি এসিল্যান্ড নিগার সুলতানা কথা বলে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে প্রতিবেদন দেন সার্ভেয়ার সাজেদুল জমিটি খারিজ হলে জানাজানি হলে এসিল্যান্ডকে জানানো হলে খারিজ বাতিল করেন। এতে বদলি হয় অফিসের আরেক জন জারীকারক ফরহাদ হোসেন । আরো ভুক্তভোগী বলেন মোটা অংকের ঘুষ দিলে শুনানি না করে নামজারি (জমাখারিজ) বাতিল করেন, সার্ভেয়ার নালিশি ভূমি তদন্তে গেলে মোটা অংকের ঘুষ নেন।আরো দেখা যায় একটি ভিডিও চিত্রে সার্ভেয়ার সাজেদুল ইসলাম একজন ভুক্তভোগী কে বলেন আমি আমার কাজ করে দিব কিন্তু স্যার টাকা ছাড়া স্বাক্ষর করবে না, এভাবে প্রতিনিয়ত এসিল্যান্ড নিগার সুলতানার নাম ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তিদের কাছ থেকে খামের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন সার্ভেয়ার সাজেদুল। ঘুষের টাকা নিয়েও কয়েক জন ভুক্তভোগী বলেন নামজারি করে দিবে বলে টাকা নিয়ে নামজারি করে দেয়নি সার্ভেয়ার। গত ৩ মাস আগে ভুক্তভুগী মান্নান ও কালাম বলেন রায়পুর ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক মনির এসিল্যান্ড নিগার সুলতানা কথা বলে সরকারি ডিসিআর ফি১১০০ টাকা সহ ৩৭০০ টাকা নেওয়ার দুটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। সেই ভিডিও কমেন্টে সার্ভেয়ার সাজেদুল ইসলামের বিষয়ে ভুক্তভুগীর কাছ থেকে নেওয়া ঘুষ ও হয়রানি কমেন্টে দেখা যায়। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অফিস সহায়ক মনির কে বদলি করা হয়।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভুক্তভুগী বলেন রায়পুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে ২০২৩ সালে ১৩ আগষ্ট যোগদান করেন সাটিফিকেট পেশকার মো নকিব হোসেন শান্ত, অফিস সহায়ক মনির বদলি হওয়ার পর থেকে সরকারি ডিসিআর ফি ১১০০ টাকা সহ ৩৭০০ টাকা এসিল্যান্ডের কথা বলে নেয় নকিব হোসেন শান্ত। নকিব হোসেন শান্ত টেবিলে ডিসিআর ফি সহ ৩৭০০ টাকা জমা না হলে এসিল্যান্ড নিগার সুলতানা টেবিলে ফাইল যায় না।এতে বিভিন্ন অজুহাতে নামজারি আবেদন নামঞ্জুর হিসেবে গন্য করেন এসিল্যান্ড।রায়পুর উপজেলার একাধিক সেবা প্রত্যাশী এ প্রতিবেদককে জানান নামজারি করতে সরকারি খরচ ১১৭০ টাকা। কিন্তু বাড়তি ঘুষের টাকা না দিলে কাজ হয় না। নামজারি করতে প্রায় প্রতিটি ঘাটে ঘাটে ঘুষ দিতে হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অফিস থেকে নামজারি করতে ৬ থেকে ৮ হাজার টাকা নেয়। কিছু কিছু জমাখারিজ করার ক্ষেএে লাখ টাকা ও আদায় করা হয়।অথচ সরকারী খাতে জমা হয় ১১৭০ টাকা বাকি টাকা চলে যায় অসৎ কর্মকর্তা - কর্মচারীদের পকেটে।তারা এসিল্যান্ডের নাম ব্যবহার করে এই টাকা গ্রহণ করেন। নামজারি করতে হলে সরকারী খরচের টাকা বিকাশ, নগদ, রকেটের মাধ্যমে জমা দেয়ার কথা থাকলেও অফিস সহায়ক, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার, হিসাব রক্ষক, নাজিরসহ দায়িত্বপ্রাপ্তরা সিন্ডিকেট করে নিজের হাতে টাকা নেন। নিয়ম অনুযায়ী অফিসের কোনো স্টাফের হাতে হাতে টাকা নেয়ার সুযোগ নেই।এই বিষয়ে অভিযুক্ত সার্ভেয়ার সাজেদুল কে উপরোক্ত অভিযোগ গুলোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি পরে ফোন দিব এই বলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।উপরোক্ত বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, আপনার অভিযোগের বিষয়ে প্রমান সহ আমাকে জানান, তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপরোক্ত বিষয়ে অতিরিক্ত দায়ীত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও আইসিটি) রাজস্ব আমাদের এপ্রতিবেদক বলেন ভুক্তভোগীদের জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।এই বিষয়ে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) শারমিন জাহান বলেন, লিখিত অভিযোগ দেন, আমি লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বলবো।