লিগ্যাল নোটিশের জবাব না দেয়ায় রায়পুর প্রেসক্লাবের সভাপতি- সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি
স্টাফ রিপোর্টার: দৈনিক জনতা পত্রিকার সাংবাদিক এহসানুল আসিফ মাসুমকে আইন বহির্ভূত ভুয়া সাংবাদিক আখ্যা দেয়ার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশের জবাব না দেয়ার রায়পুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্ততির কথা জানিয়েছে ভুক্তভোগী। ১১ ডিসেম্বর সাংবাদিক এহসানুল আসিফ মাসুম এ প্রতিবেদককে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গত ১৬ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর জজ কোর্টের আইনজীবি আনোয়ার হোসেন রায়পুর প্রেসক্লাবের সভাপতি- সম্পাদক কে ভুক্তভোগী সাংবাদিক এহসানুল আসিফ মাসুমে পক্ষে লিগ্যাগ নোটিশ দিয়েছেন। গত ১৬ নভেম্বর জারি করা এ নোটিশে রায়পুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ান হোসেন ঢালী ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ সুমনের পক্ষ থেকে পূর্বে প্রকাশিত একটি বিবৃতি প্রত্যাহার এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়।
জানা যায় গত ১২ নভেম্বর রায়পুর প্রেসক্লাবের প্যাডে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, “মো. এহসানুল আসিফ মাসুম” নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া একজন ব্যক্তি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে “অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজিতে জড়িত”—এমন তথ্য তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। একই সঙ্গে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানায়, উক্ত ব্যক্তির সঙ্গে ক্লাবের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি কখনো সদস্য ছিলেন না।
বিবৃতিটি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রেরণ করা হয় এবং আজকের লক্ষীপুর পএিকা, ঢাকা ক্যানভাস, লক্ষীপুর সময়, মিডিয়া নিউজসহ কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও আইডি থেকে পোস্ট দেয়। যার কারনে গণমাধ্যম ও সাধারন জনতার মাঝে আলোচনা- সমালোচনা হয়। এতে করে সাংবাদিক মাসুমের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন প্রেরিত নোটিশে উল্লেখ করেন, প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিবৃতিতে তার মোয়াক্কেলকে “ভুয়া সাংবাদিক” হিসেবে উপস্থাপন করে মানহানি করা হয়েছে। নোটিশে আরও দাবি করা হয়, মাসুম গত ১৯ অক্টোবর “রায়পুরের ভূমি অফিস গুলো যেন দূর্নীতির হাট” শিরোনামে দৈনিক জনতা পত্রিকায় সাংবাদিক এহসানুল আসিফ মাসুমের নামে একটি সংবাদ প্রকাশ করার পর আপনাদের অবৈধ সুযোগ সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। এর পরিপেক্ষিতে আপনারা সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে রায়পুর ভূমি অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের সাথে আতাত করে সাংবাদিক এহসানুল আসিফ মাসুমকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে প্রেসক্লাবের শীর্ষ নেতারা উদ্দেশ্যপ্রণিতভাবে আইন বহির্ভূত ওই বিবৃতি দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক এহসানুল আসিফ মাসুম লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বিবৃতি প্রত্যাহার, ক্ষমা প্রার্থনা এবং নোটিশের জবাব প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
উপরোক্ত বিষয়ে প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ঢালীকে মুঠোফোনে আমাদের এপ্রতিবেদক জানতে চাইলে তিনি জানান, গত কয়েক দিন ব্যক্তিগত কারনে ব্যস্ত থাকায় বিষয়টি এখনও খতিয়ে দেখতে পারিনি। সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।”
সাধারণ সম্পাদক সুমনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর সবুর মহোদয়ের সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো সাংবাদিক বা ব্যক্তি প্রেসক্লাবের অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত মনে করলে প্রেস কাউন্সিলে লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন। অভিযোগ পেলে কাউন্সিল তদন্ত করে প্রয়োজনীয় নোটিশ ও ব্যবস্থা নেবে। লক্ষ্মীপুর সাংবাদিক কল্যাণ সংস্থা রায়পুর প্রেসক্লাবের বিবৃতির নিন্দা ও তদন্তের দাবি করেছে। সংগঠনটির সভাপতি- সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান উপদেষ্টা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে অভিযোগ থাকলে সেটি যাচাই- বাছাই না করে প্রকাশ করলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।






